বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ আয়োজনে আগামী ২০২৭ সালে পর্দা উঠছে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের। বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬টি দেশের এই বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তিন শহরের মোট চারটি ভেন্যুতে ১৬ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের মোট ৪১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। টুর্নামেন্টের সিংহভাগ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ১৪টি এবং সিলেটে ১২টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে সহ-আয়োজক নেপালের মুলপানিতে ৮টি ও কির্তিপুরে অনুষ্ঠিত হবে ৭টি ম্যাচ। উদ্বোধনী দিনে সিলেট ও মুলপানিতে দুটি করে ম্যাচ থাকবে। ম্যাচগুলো প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট ও দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। নকআউটের সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।
১৬টি দেশকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। স্বাগতিক বাংলাদেশ রয়েছে ‘সি’ গ্রুপে; যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া। ২১ জানুয়ারি আমিরাতের মুখোমুখি হওয়ার পর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া এবং ২৫ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে বাঘিনীরা। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিলেটের মাঠে। অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানের সঙ্গে লড়বে সামোয়া এবং ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি দল উঠবে ‘সুপার সিক্স’ পর্বে। ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপের সেরা ছয় দলকে নিয়ে গঠিত হবে প্রথম গ্রুপ এবং ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপ নিয়ে হবে দ্বিতীয় গ্রুপ। গ্রুপ পর্বের শেষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে একটি করে প্লে-অফ ম্যাচ খেলবে। সুপার সিক্সে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ পাবে, যেখানে এক গ্রুপের দল অন্য গ্রুপের বিপরীত অবস্থানের দুই দলের মুখোমুখি হবে। একই গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে ওঠা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্ট পরবর্তী রাউন্ডেও বহাল থাকবে। ২৬ জানুয়ারি গ্রুপ পর্ব শেষে সুপার সিক্স পর্ব গড়িয়ে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল (রিজার্ভ ডে ৫ ফেব্রুয়ারি)। এরপর আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামে গ্র্যান্ড ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের পর্দা নামবে, যার রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত জানান, উদীয়মান তরুণীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে এই বিশ্বকাপ অনন্য সুযোগ এবং এটি নারী ক্রিকেটের ভিত আরও সুদৃঢ় করবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)