কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নামে একটি সেতু নির্মাণের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তাঁদের এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে গড়াই নদী পারাপার হতে হয়। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে তিনি আবরারের স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় তাঁর নামে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের আবেদন জানান। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে সেতু নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।
একই সঙ্গে আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ এবং তাঁর কবরের পাশে অবস্থিত অসমাপ্ত মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তাঁর বাবা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের মসজিদটির নির্মাণকাজ অনতিবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে আবরারের বাবা ছেলের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া এবং পলাতক আসামিদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আবরার হত্যা মামলার এক আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ৬ মাস পর পরিবারকে সে খবর জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পলাতক ও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরে সরকারের সহযোগিতা চান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
সাক্ষাৎকালে আর কোনো মায়ের বুক যেন এমন মর্মান্তিকভাবে খালি না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলে-মেয়েরাই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো সন্ত্রাসী পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বুয়েটে আবরারের নামে একটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের দাবি তোলেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে পাঠ্যবইয়ে আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান ফাইয়াজ। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের মতো আবরার ফাহাদসহ অতীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তা নিয়ে কাজ চলছে।
এ সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং আবরার ফাহাদের মামা ও চাচা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, বাংলাদেশ সচিবালয়।