“সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা”—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুত প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সমন্বিত একটি সেবাব্যবস্থায় রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। দেশের বিস্তীর্ণ ডাক নেটওয়ার্ককে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস সুবিধা জোরদার, দ্রুত পার্সেল পরিবহন, বহুমুখী ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার ডাক বিভাগের সার্বিক আধুনিকায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তা তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর রূপান্তর, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার তৈরি, দেশব্যাপী ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলা, ডিজিটাল আর্থিক সেবার কার্যকর সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু এবং সবুজ ডাকব্যবস্থা (গ্রিন পোস্টাল সিস্টেম) নিশ্চিতকরণ।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী এবং তথ্যবহুল ডাকসেবা মেলার মতো বৈচিত্র্যময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যতীত ডাক বিভাগের সব স্তরের কার্যালয় সাধারণ মানুষের ডাকসেবা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আলোচকেরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক ও সমন্বিত এই ডাক নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্সের সম্প্রসারণ, সর্বজনীন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সূত্র: ডাক অধিদপ্তর, ঢাকা।