শিরোনাম :
রিয়াদের বাদশাহ খালিদ বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের পুতিনের প্রশংসা ও কিয়েভের আস্থা: মস্কো-কিয়েভ রক্তক্ষয় থামাতে সক্রিয় নয়াদিল্লির কূটনীতি রামপালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাম-রুবেলা টিকাদানে দুই কোটি শিশু, আরও ৩৫ লাখকে আনার লক্ষ্য দুর্গাপূজায় পূজা মণ্ডপে সরকারের অনুদান ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নে নির্ভুল নিবন্ধনের ওপর গুরুত্ব চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে আনন্দময় শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও সংস্কৃতি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল ৪০তম ফোবানায় নওশীনের কণ্ঠে প্রবাসে বাংলাদেশের সুর অনুবাদস্বত্ব, মেধাস্বত্ব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন পাঞ্জেরীর এমডি

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বাস্তবায়নে নির্ভুল নিবন্ধনের ওপর গুরুত্ব

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের তথ্যের বড় ধরনের পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে তিনি জনগণের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল মঈন খান বলেন, নির্বাচিত সরকারের হাতে যে ক্ষমতা থাকে, সেটি জনগণের সেবা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করতে হবে। জনগণ ভোট দেওয়ার সময় সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা রাখে, সেই প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের ধরন আলাদা হলেও মানুষের সেবা করাই উভয়ের অভিন্ন লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা মানুষের প্রয়োজন পূরণের কাজে লাগাতে হবে; জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করতে নয়।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনকে জাতীয় প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন ব্যবস্থায় সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগজনক। এই গরমিল দূর করে একটি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই মানুষের সেবা নিশ্চিত হয় না। প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের প্রতি তাদের আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন নাগরিক যেন একটি সাধারণ জন্মসনদ সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে বাধ্য না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।

গ্রামের সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ কম শিক্ষিত হলেই তার নাগরিক অধিকার কমে যায় না। তৃণমূলের প্রত্যেক নাগরিকের সরকারি সেবা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার। অথচ ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় যথাযথ শুদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের পরিসংখ্যানগত অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ বাস্তবায়নে বিডিআরআইএস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আরও নির্ভুল করতে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারণার আলোকে পুনরায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। তার মতে, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাম পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কার্যক্রম আরও সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করেন এবং এতে পিতার পাশাপাশি মায়ের পরিচয় যুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের জন্য বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পুরস্কার লাভ করে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD