রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সংকট বর্তমানে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে। এতে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগের মতো উচ্চমাত্রায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এসব সাক্ষাৎকার ও সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাতের কারণে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানিতে মিয়ানমার অংশে পুঁতে রাখা মাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে চলে আসায় কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রও তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম প্রতিনিধিদল। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়াবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ।