শিরোনাম :
সুইজারল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহ, এক বছরে গলেছে ৫ শতাংশের বেশি হিমবাহের বরফ ট্রাম্প প্রশাসনে আড়াই লাখের বেশি ভিসা বাতিল, এইচ-১বি ফি ফের স্থগিত মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, ওআইসি ও আরব দেশগুলোর নিন্দা কক্সবাজার-পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে এয়ার এশিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকারসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ব্রাসেলসে মতবিনিময় পাচার হওয়া প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগ, সংকুচিত হতে পারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর মনোনয়ন পেলেন শেরপুরের জয়া বণিক শিক্ষার অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউরোপের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আলোচনা ফেরদৌসী আহমেদের পদত্যাগ, শূন্য সংরক্ষিত নারী আসন

কক্সবাজার-পেনাং সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে এয়ার এশিয়া

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার ও মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ প্রস্তাবিত এই রুটের মাধ্যমে কক্সবাজার মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ অগ্রগতি এসেছে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। স্থলবেষ্টিত নগরগুলোর সঙ্গে কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুরও পরিকল্পনা করছি। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য।’

কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকর্ষণের সম্ভাবনা সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল একটি গন্তব্য হিসেবে না রেখে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এসব আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে এয়ার এশিয়া ঠিক কবে থেকে কক্সবাজার-পেনাং রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে এবং সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এয়ার এশিয়ার আগ্রহকে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুট চালুর জন্য সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সর্বশেষ এয়ার এশিয়ার আগ্রহ সেই প্রচেষ্টায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বাসসকে বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন বর্তমান টার্মিনাল দিয়েই হবে। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে। এর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার অবকাঠামোগত সক্ষমতাও সম্প্রসারিত হয়েছে।

সূত্র: বাসস

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD