ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন জোটের নেতারা। মমতার বক্তব্যের সময় তার পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে দুজনকে পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাতেও দেখা যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এর আগেও নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদের সমালোচনা আরও তীব্র হয়। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় বা মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়।
মমতা আরও বলেন, কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও তারা সমাধান পাননি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি। ভোট ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে কারচুপির অভিযোগও তোলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এসব অভিযোগ বিরোধীদের রাজনৈতিক দাবি হিসেবে এসেছে; নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।