চলতি বছর দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্যায়ে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পাবেন।
বুধবার ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী’ প্রদান অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ বছর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ অক্টোবর ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন।
ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে প্রিন্টেড কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। একই দিনের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে এবং অন্য ৬৪টি উপজেলা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই ধাপে ধাপে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কৃষি উপকরণ কেনায় কৃষকদের সহায়তা এবং সরকারি সহায়তা আরও সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: কৃষি মন্ত্রণালয়।