২৫ সেপ্টেম্বর: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির সতর্কবার্তা হিসেবে গত মাসের ভয়াবহ বন্যার কথা তুলে ধরে নেপালকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
বৃহস্পতিবার ২৪সেপ্টেম্বর২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে ক্রমেই অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট গলে যাচ্ছে, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
গত মাসের শেষ দিকে নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল ঢলে নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া এবং পারমাফ্রস্ট গলার মতো প্রক্রিয়াগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটিকেই বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল ব্যয়ের একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহনের আহ্বান জানান নেপালের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রস্তাবিত উদ্যোগে নেপাল, ভারত ও চীনের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। একটি দেশ এই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ যত অর্থ চাইতে পারে, নেপালের চাওয়া অর্থ সেই সীমার সমান। তবে সরকারের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতির তুলনায় এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড় করতে পারেনি। ফলে নেপালের আবেদন তহবিলটির কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে নেপালকে আরও ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।