শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস: নেপথ্যে যুদ্ধ, সংঘাত ও আবহাওয়া সংকট নতুন বাণিজ্যিক ধারা সৃষ্টি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঘাটতি পূরণে হাইনানের বিশেষ উদ্যোগ ইতিহাস অস্বীকারের প্রবণতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ্রাসন মুছে ফেলতে চায় ডানপন্থী শক্তি বেইজিংয়ে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো সিপিসির বিশতম কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রশিদ খানের ২০০ উইকেট সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু: ধাওয়াকারীরা ‘পুলিশের লোক’ ছিল বলে আটক বন্ধুর দাবি জাপানে চার দিনের সফল সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী লড়ার সুযোগ নেই: আনিসুল-সালমানসহ ৫ আসামির আবেদন নাকচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর: প্রথম ইউনিটে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ প্রক্রিয়ার অনুমোদন সাফল্যের চার বছর: মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছে জার্মান বাংলা চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশন

শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ অধিবেশনে পরমাণু বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যে সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর আইএইএ-এর সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। এ সময় তিনি অধিবেশনের সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকার জন্য আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিকে ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএইএ-এর টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উপকৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ২০২৬–২০৩২ মেয়াদের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন বিজ্ঞানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রটির ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই উদ্যোগ দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণেও এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে আইএইএ-এর ‘রেইজ অব হোপ’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষে তিনি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রসার, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD