শিরোনাম :
সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি চীনের আধুনিকায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: সি চিন পিং ডারউইন জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন পরিচয়, প্রশংসায় সাবেক তারকা ও বিশ্লেষকরা রাজধানীতে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালু বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি আজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সেপ্টেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভূমধ্যসাগরে ১১ দিন ভেসে থাকার পর নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু, ৯ জনই বাংলাদেশি কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৯৪, নিখোঁজ ৩২০ পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নয়নের ভারসাম্যে চীনের সাফল্যের প্রশংসায় জাতিসংঘ ফিল্ডস পদক চীনের বিশ্বমানের গণিত গবেষণার প্রমাণ: মার্টিন হেয়ার

সেপ্টেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারে। রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে। জাতীয় গ্রিডে কবে নাগাদ রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসীও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত ধাপে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একবার কেন্দ্রটি চালু হলে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে। একটি ইউনিটে একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এরপর নতুন জ্বালানি সংযোজনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখতে হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে অন্য ধরনের বিদ্যুতের তুলনায় আরও নির্ভুল ও স্থিতিশীল ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চালন করতে হয়। সে কারণে রূপপুরের সঙ্গে সংযুক্ত জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গ্রিডে যাতে সামান্য কোনো ত্রুটিও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না করে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো ধরনের বাধা না আসে, সে জন্য সরকার পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরও একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে এসব অবকাঠামোর বেশিরভাগের কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে রূপপুরের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হলে আরও প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে দেশের জাতীয় গ্রিডের বর্তমান ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি সমন্বিত হওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেনি। এই সমন্বয় যথাযথভাবে করা না গেলে যেকোনো সময় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে পিডিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডকে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণের উপযোগী করার কাজ চলছে।

তবে রূপপুরের বিদ্যুৎ শেষ পর্যন্ত কী দামে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাদা ক্রয়চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য ৩ থেকে ৪ টাকা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অর্থ পরিশোধ নিয়েও কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু অর্থ পরিশোধ এখনো আটকে আছে।

তার ভাষ্য, রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব লেনদেন সম্পন্ন করতে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় অর্থ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, অর্থ পরিশোধের এই জটিলতার কারণে রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব প্রস্তুতি সফলভাবে শেষ করেই রূপপুরের বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD