ব্রাসেলস, ২ অক্টোবর, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন এএসবিএল, ব্রাসেলসের উদ্যোগে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্ড্রেই দোস্তালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ আলোচনায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোলজ, বিজ্ঞানী ও লেখক ড. নূরান নবী, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন এএসবিএলের মহাসচিব এএফএম গোলাম জিলানী এবং জেনেভা থেকে আগত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান গ্রেন বক্তব্য দেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বক্তব্যে ড. নূরান নবী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক বিনিয়োগের সম্পর্ক তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়েও তিনি মতামত দেন।

ড. নূরান নবী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ এবং আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোলজ বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বর্তমান মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশে ‘গণহত্যা’ চলছে বলে দাবি করেন।
জেনেভা থেকে আসা ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর হিউম্যান রাইটসের মহাসচিব আব্দুর রহমান গ্রেনও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে স্বীকৃতি পেয়েছিল, সে বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন এএসবিএলের মহাসচিব এএফএম গোলাম জিলানী দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও অবস্থানের মানুষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। তিনি মানবাধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিকও আলোচনায় স্থান পায়।
ফ্রান্স থেকে সাত্তার শাহ আলম সুমন, আলী খাতুন, ফাতেমা হোসেন ও শাহ আলম মায়া; জার্মানি থেকে লেনা আখতার এবং যুক্তরাজ্য থেকে মেহেদী হাসান ও তাওহিদ ফিত্রাতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানবাধিকার, শান্তি, গণতান্ত্রিক সংলাপ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।