শিরোনাম :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ অনুমোদিত কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা: দুই কিশোর পাঠানো হলো শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই: রোমে পরিবেশমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ ইতালির স্কুলে হিজাব-বোরকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও আসছে সীমা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা চায় অ্যাঙ্গোলা সৌরশক্তি ও পশুপালনের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন পথ সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন রূপকথা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন রোমাঞ্চকর ও শিহরণ জাগানো মুহূর্ত খুব কমই এসেছে। ডারউইনের বাইশ গজে শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়নি, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটে যুক্ত হয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল নতুন অধ্যায়। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের নিজেদের মাটিতে ৫৭ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারটি দিন বাংলাদেশের জন্য কেটেছে দুর্দান্তভাবে। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের এমন দাপুটে জয় ছিল অনেকটাই অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় যে কোনো দলের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই কঠিন কাজটিই অসাধারণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়; বরং দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষারও অবসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা অবশেষে সার্থক হলো। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ফলে সিরিজ হারার শঙ্কাও আর থাকল না বাংলাদেশের সামনে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য অবশ্য এই পরাজয় সহজে মেনে নেওয়ার মতো নয়। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে এতটা দাপটের সঙ্গে খেলতে দেখা তাদের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেসার ছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের প্রত্যেকেরই ছিল ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেটের অভিজ্ঞতা। এমন শক্তিশালী আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেওয়া তাই নিঃসন্দেহে অসাধারণ অর্জন।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখাল লাল-সবুজের দল। ম্যাচে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হবে—এমন ভাবনা থেকেই শুরু হয়েছিল লড়াই। কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আঘাত হানেন, তাতেই জয়ের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়।

দুই সেশনেরও বেশি সময় বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। দুইশ রানের আগেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। এমন দৃশ্য যেন প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ধারণা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণও বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর একইভাবে চাপ তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টোটা। বল হাতে দাপট দেখানোর পর ব্যাট হাতেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখে বাংলাদেশ।

তানজিদ হাসান তামিম খেলেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ হাফ সেঞ্চুরি বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত মজবুত করে। তিন ব্যাটারের কার্যকর ব্যাটিংয়ের সঙ্গে টেলএন্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় বাংলাদেশ। বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে এর আগে এত বড় লিড কখনো নিতে পারেনি তারা।

এমন বড় লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে স্বাভাবিকভাবেই চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বোলাররাও সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। হাসান জোড়া আঘাতে স্বাগতিক ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ধাক্কা দেন। প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

ক্যামেরন গ্রিন দেশের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বল হাতে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদু অস্ট্রেলিয়ার সেই লিডকে বড় হতে দেয়নি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্যও নাগালের মধ্যেই থাকে।

শেষ ইনিংসে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম ডাক মেরে ফিরে গেলেও বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা তৈরি হয়নি। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করার যে স্মৃতি অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল, মূল ম্যাচে তার কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। বরং ডারউইনের মাটিতে বাংলাদেশই শেষ হাসি হাসল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD