শিরোনাম :
তীব্র গরম-খরায় বিপর্যস্ত জার্মানি, দাবানল থেকে নদীর পানিসংকটে বাড়ছে উদ্বেগ সম্পাদকীয় : ১৫ আগস্ট ইতিহাসের স্মৃতি মুছে নয়, সত্যকে ধারণ করেই এগোতে হবে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি জার্মানিতে একদিনে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দাবানল, কৃষি সংকট, জ্বালানির দাম, গোয়েন্দা সংস্কার ও ফ্রাঙ্কফুর্টে ধর্মঘট পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ শিল্প গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফরে ক্ষুব্ধ টোকিও, কড়া প্রতিবাদ জাপানের সবুজ উন্নয়নের পথে চীন, প্রকৃতি সুরক্ষায় জোর দিচ্ছেন সি চিন পিং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে সব মার্কিন সেনা

তীব্র গরম-খরায় বিপর্যস্ত জার্মানি, দাবানল থেকে নদীর পানিসংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরায় জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বন আগুন, নদ-নদীর পানির স্তর কমে যাওয়া, কৃষিতে উৎপাদন হ্রাস এবং তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত গরম ও খরা এখন দেশটির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর রাইন-ভেস্টফালিয়ার Hürtgenwald/Eifel এলাকায় বড় ধরনের বন আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। Tagesschau-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন ইতোমধ্যে ২০০ হেক্টরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকল ও জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। আগুনের ঝুঁকি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতির প্রভাব পড়েছে জার্মানির নদীগুলোর ওপরও। বিশেষ করে Rhine (রাইন) নদীর পানির স্তর ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমে গেছে। পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে শিল্পের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খরার কারণে জার্মানির কৃষি খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। দেশটির কৃষক সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও প্রচণ্ড গরমের কারণে চলতি বছরের ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু lignite (লিগনাইট) ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্ধারিত ২০৩০ সালের পরও প্রয়োজন হলে চালু রাখার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি না হওয়াই এ আলোচনার মূল কারণ।

তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব জনস্বাস্থ্যেও পড়ছে। Robert Koch Institute (RKI)-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর জার্মানিতে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ তাপজনিত মৃত্যুর অনুমান করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা নয়; পরিসংখ্যানভিত্তিক হিসাবের ওপর তৈরি একটি অনুমান। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমের প্রভাব নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জার্মানিতে চলমান পরিস্থিতির মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা, বন আগুন এবং নদীর পানির স্তর কমে যাওয়া। এর সঙ্গে কৃষি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের চরম আবহাওয়াজনিত সংকট তীব্র হওয়ায় বিষয়টি এখন শুধু জার্মানির নয়, পুরো ইউরোপের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD