শিরোনাম :
দেশের টেলিকম খাতকে আধুনিক, বিনিয়োগবান্ধব ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য জবাবদিহি ও শিশুদের ন্যায়বিচার নিয়ে নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে জাসাসকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ১৭ বছরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ভেঙে সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে হবে :ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দেশে সুস্থ্য প্রতিযোগিতার বিকাশ হোক, উন্নত প্রযুক্তিবান্ধব ও নিরাপদ পর্যটন শহর গড়ে তুলতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দেশ গঠনের ডাক প্রধানমন্ত্রীর, “৪০ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করলে বদলে যাবে বাংলাদেশ” বাংলাদেশে জেএফ-১৭ সিমুলেটর পাঠাল পাকিস্তান : সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান চুক্তির আগাম প্রস্তুতি সময়ের কথকথা জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা ইস্যুতে উত্তাল ক্যাম্পাস বৈশ্বিক সংকট ও ঋণের চাপে কঠিন সময় পার করছে দেশ: অর্থমন্ত্রী

মানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য জবাবদিহি ও শিশুদের ন্যায়বিচার নিয়ে নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

মানবাধিকার, জনস্বাস্থ্য জবাবদিহি এবং শিশুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “Children’s Lives Matter” শীর্ষক একটি নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টারের তৌফিক আজিজ খান সেমিনার হলে এ আয়োজন করে Bangladesh Child Protection Initiative।

Children’s Lives Matter শিরোনামে আয়োজিত নাগরিক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হাম/Measles পরিস্থিতি, শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুরতা, তথ্য ব্যবস্থাপনার অস্পষ্টতা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য গবেষক, নার্স, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একমত হন যে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি, শিশু অধিকার সুরক্ষা, তথ্য স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সচেতনতার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।

বক্তারা বলেন, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক টিকাদান, নজরদারি, জরুরি জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া এবং কমিউনিটি সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে বহু শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। তাই এই সংকটকে শুধু “outbreak” হিসেবে নয়, বরং public health accountability issue এবং children’s right to life and health-এর প্রশ্ন হিসেবে দেখতে হবে।

আলোচনার মূল বিষয়সমূহ
১. হাম পরিস্থিতি, টিকাদান সংকট ও প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু
বক্তারা বলেন, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার preparedness নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। আলোচনায় উঠে আসে যে, গত কয়েক বছরে ভ্যাকসিন সংগ্রহ, টিকাদান কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের নজরদারি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা, কমিউনিটি সচেতনতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের দুর্বলতার কারণে বর্তমান সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিক শিশির মোড়ল উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী হাম প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশের বেশি ভ্যাকসিন কভারেজ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে কভারেজ কমে ৮১–৮২ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত বা under-immunized অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, WHO ও UNICEF আগেই হাম প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথাসময়ে নেওয়া হয়নি।
বক্তাদের মতে, measles outbreak এখন শুধু একটি রোগতাত্ত্বিক সংকেত নয়; এটি একটি systemic warning—যেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, data gap, vaccine gap এবং emergency response failure একসাথে দৃশ্যমান হয়েছে।

২. স্বাস্থ্যখাতের ভঙ্গুরতা ও চিকিৎসা অবকাঠামোর সংকট
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ডা. জেবুন্নেসা জেবা হাসপাতাল ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দেশের বড় হাসপাতালগুলোতেও অনেক সময় ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায় না। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রয়োজনীয় ক্যানোলা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গ ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত সংকট রয়েছে। বিশেষ করে:
শিশুদের জন্য ICU সুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল;
শিশু চিকিৎসা অবকাঠামো প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল;
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সংখ্যা সীমিত;
হাসপাতালে জরুরি ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকট রয়েছে;
জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত preparedness দুর্বল;
গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারগুলো উন্নত চিকিৎসা গ্রহণে বড় বাধার মুখে পড়ে।
ILO প্রতিনিধি সাদমান বলেন, এই সংকট কেবল তাৎক্ষণিক নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি structural crisis। মানবসম্পদ, বাজেট, স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা মিলিয়ে আজকের সংকট তৈরি হয়েছে।
৩. তথ্যের গরমিল, স্বচ্ছতার অভাব ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন
বক্তারা অভিযোগ করেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি রয়েছে। সরকারি তথ্য, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে জনস্বাস্থ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাহত হয়।
TIB-এর জুলকারনাইন বলেন, COVID-19 এবং ডেঙ্গু মোকাবিলার সময় যেসব দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল—তথ্য গোপন, ICU সংকট, সমন্বয়হীনতা, দুর্বল প্রস্তুতি—সেগুলোর অনেকটাই এখনো রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সংকটে তথ্যের স্বচ্ছতা ও স্বাধীন যাচাই অত্যন্ত জরুরি।
লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ কয়েকটি জরুরি প্রস্তাব তুলে ধরেন:
একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন;
প্রতিদিন স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ;
জাতীয় হেল্পলাইন চালু;
মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই;
দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হতে পারে—এমন আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে তথ্য যাচাই ও প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার।

৪. রাজনৈতিক দায়, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি
আলোচনায় বিভিন্ন বক্তা বর্তমান ও সাবেক সরকার উভয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় থাকা প্রতিটি সরকার অনেক সময় দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে, ফলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয় না।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন, শত শত শিশুর মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক দোষারোপ চললেও মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কেন এই মৃত্যু ঠেকানো গেল না এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ঠেকানো যাবে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, “যাদের কোনো কথা বলার সুযোগ নেই, সেই মৃত শিশুরাই যেন শেষ পর্যন্ত দায়ী হয়ে যায়।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে, শিশুদের মৃত্যু নিয়ে accountability-এর প্রশ্নকে রাজনৈতিক আনুগত্য, দলীয় অবস্থান বা blame game-এর মধ্যে আটকে রাখা যায় না।বক্তারা বলেন, public health failure-কে রাজনৈতিক বিবাদে সীমাবদ্ধ করলে শিশুদের ন্যায়বিচার হারিয়ে যায়। বরং প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক তদন্ত, প্রশাসনিক দায় নির্ধারণ এবং নীতিগত সংস্কার।

৫. ধর্মীয় কুসংস্কার, গুজব ও টিকা-বিরোধী অপপ্রচার
অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, এখনো সমাজে টিকা নিয়ে ভয়, ভুল ধারণা ও অপপ্রচার রয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কিছু ধর্মীয় বক্তা বা সামাজিক প্রভাবশালী ব্যক্তি টিকাদানকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” হিসেবে উপস্থাপন করেন, অথচ এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, মসজিদ, ধর্মীয় সমাবেশ বা কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মগুলো জনস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ, টিকাদান, শিশু অধিকার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এসব জায়গায় ইতিবাচক জনস্বাস্থ্য বার্তা খুব সীমিতভাবে পৌঁছায়।
বক্তারা বলেন, ভ্যাকসিনবিরোধী গুজব মোকাবিলায় শুধু সরকারি বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট নয়। দরকার স্থানীয় ভাষায়, বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের মাধ্যমে, কমিউনিটি-ভিত্তিক এবং ধর্মীয়-সামাজিক পরিসরকে যুক্ত করে সচেতনতা তৈরি করা।

৬. মানবিক সংকট, দরিদ্র পরিবার ও শিশুদের অসম সুরক্ষা
রাশেদা কে. চৌধুরী একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তাঁর গৃহকর্মীর দুই মাস বয়সী শিশুসন্তান হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—“Children’s lives matter—কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই সবার কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ?”
এই বক্তব্য আলোচনাকে গভীর মানবিক জায়গায় নিয়ে যায়। বক্তারা বলেন, দরিদ্র, গ্রামীণ, শ্রমজীবী, বস্তিবাসী, অভিবাসী এবং প্রান্তিক পরিবারগুলোর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তারা অনেক সময় সময়মতো টিকা পায় না, চিকিৎসা পায় না, তথ্য পায় না, এবং সংকটের সময় সবচেয়ে আগে হারিয়ে যায়।


বক্তারা বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মাঠপর্যায়ের সেবা শক্তিশালী করা এবং শিশু চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি। কেউ কেউ GDP-এর কমপক্ষে ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের দাবি জানান।
৭. শিশু সুরক্ষা, নির্যাতন ও বৃহত্তর child protection crisis
আলোচনায় হাম পরিস্থিতির পাশাপাশি শিশু সুরক্ষার বৃহত্তর সংকটও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, শিশুর অধিকার শুধু টিকা বা চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ পরিবার, নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিরাপদ মাদ্রাসা, নিরাপদ এতিমখানা, নিরাপদ আবাসিক স্কুল, নিরাপদ হাসপাতাল এবং কার্যকর বিচারব্যবস্থা—সবই শিশু সুরক্ষার অংশ।

বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, repeated abuse, neglect বা institutional violence-এর পরও কেন শক্তিশালী child safeguarding law, complaint mechanism এবং independent monitoring ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শিশুদের নিরাপত্তা এখনও অনেক ক্ষেত্রে “পারিবারিক বিষয়” হিসেবে দেখা হয়, ফলে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান দায় এড়ানোর সুযোগ পায়।
আলোচনায় বলা হয়, শিশুদের body safety, unsafe touch, help-seeking, health literacy এবং protection education জাতীয় শিক্ষাক্রম ও কমিউনিটি শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।

সভা থেকে উঠে আসা প্রধান সুপারিশসমূহ
আলোচনায় বক্তারা বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ তুলে ধরেন:
জাতীয় পর্যায়ে Health Emergency Protocol চালু করা;
হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা;
ভ্যাকসিন সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা;
zero-dose ও under-immunized শিশুদের শনাক্ত করে জরুরি outreach vaccination নিশ্চিত করা;
শিশুদের জন্য ICU ও শিশু চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণ;
হাসপাতালগুলোতে জরুরি ওষুধ, সরঞ্জাম ও trained personnel নিশ্চিত করা;
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কার করা;
তথ্য গোপন না করে নিয়মিত সরকারি স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করা;
ভ্যাকসিনবিরোধী গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া;
স্বাস্থ্যখাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা;
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য psychosocial support, medical support এবং social protection নিশ্চিত করা;
শিশু সুরক্ষায় child safeguarding framework ও independent monitoring ব্যবস্থা চালু করা।
Dhaka Call for Child Health Justice
ঢাকা আহ্বান: শিশুস্বাস্থ্য ন্যায়বিচার ও জনস্বাস্থ্য জবাবদিহির ১০ দফা
গোলটেবিল আলোচনার ভিত্তিতে নাগরিক সমাজ, জনস্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত ১০ দফা দাবি/আহ্বান তুলে ধরা হয়:
১. স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ
হাম প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত শিশু, মৃত্যু, জেলা/উপজেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি, টিকাদান অগ্রগতি এবং response status নিয়ে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
২. স্বাধীন তদন্ত ও দায় নির্ধারণ
টিকাদান, vaccine supply, surveillance, early warning, public communication এবং emergency response-এর কোন পর্যায়ে ব্যর্থতা হয়েছে, তা নিরূপণে স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য review/investigation করতে হবে।
৩. জরুরি outreach vaccination
zero-dose, under-immunized, migrant, urban poor, slum, remote এবং marginalized communities-এর শিশুদের জন্য জরুরি outreach vaccination কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
৪. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তা
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য medical support, psychosocial support, social protection এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে compensation বা রাষ্ট্রীয় সহায়তা বিবেচনা করতে হবে।
৫. স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা
DGHS, EPI, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর accountability mechanism শক্তিশালী করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তা তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
৬. টিকাদান অগ্রগতির public reporting
measles-rubella vaccination campaign-এর অগ্রগতি, coverage gap, missed children এবং vaccine availability নিয়ে নিয়মিত public reporting নিশ্চিত করতে হবে।
৭. জাতীয় শিশুস্বাস্থ্য জরুরি প্রস্তুতি পরিকল্পনা
ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়, তার জন্য একটি কার্যকর National Child Health Emergency Preparedness Plan গ্রহণ করতে হবে।
৮. child-facing institutions-এ safeguarding ব্যবস্থা
স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা, আবাসিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কমিউনিটি সেন্টারসহ সব child-facing institution-এর জন্য শক্তিশালী child safeguarding policy, complaint mechanism এবং independent monitoring নিশ্চিত করতে হবে।
৯. স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা শিক্ষা
শিশুদের health literacy, body safety, help-seeking, vaccine awareness এবং protection education জাতীয় শিক্ষাক্রম ও কমিউনিটি প্রোগ্রামে যুক্ত করতে হবে।
১০. জাতীয় সচেতনতা অভিযান
গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয়/কমিউনিটি নেতা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করে nationwide child health and protection awareness campaign চালু করতে হবে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি কেবল একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সচেতনতা এবং শিশু অধিকার সুরক্ষার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রতিরোধযোগ্য রোগে শত শত শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি শিশুর মৃত্যু একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি রাষ্ট্রের সামনে জবাবদিহির প্রশ্ন রেখে যায়।
সভা থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়—
শিশুর জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়।
প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুমৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।শিশুদের স্বাস্থ্য অধিকার, নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে রাষ্ট্রকে উত্তর দিতে হবে।
এই গোলটেবিল আলোচনা এখানেই শেষ নয়; এটি একটি নাগরিক আহ্বানের শুরু। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে যাবে এবং প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD