পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুষম ও সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষকে দেশের মূল ধারার উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি উল্লেখ করেন।
গতকাল রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত ‘বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিষু ও চাংক্রান পুনর্মিলনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক উৎসব’-এ মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি আরও বলেন, তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি-বাঙালি জনগণ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতি আস্থা রেখে বিপুল ভোটে তিনজন সংসদ সদস্য জয়যুক্ত করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য মন্ত্রী উপহার দেওয়ায় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ দেশের মূল স্রোতধারার চেয়ে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে খেয়াং, বম ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষকে এগিয়ে নিতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্ত্বা জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে কোটা নির্ধারণ থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পার্বত্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সংখ্যা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসার ঘটানো অত্যন্ত জরুরি বলে মন্ত্রী মনে করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও পাহাড়ি মানুষের সামগ্রিক কল্যাণে সরকার বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের ভাষা, ধর্ম, লিঙ্গ ও জাতিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা বা কোটা গ্রহণ মেধাবিরোধী নয়, বরং তা জাতীয় সংহতির জন্য অপরিহার্য।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) তপন বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী, পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজধানীতে বসবাসরত পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
পরে সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান এমপি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার এমপি জনাব আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার এমপি জনাব সাচিং প্রু জেরী এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি এডভোকেট মাধবী মার্মাকে সংবর্ধনা স্মারক প্রদান কিরা হয় এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।