জার্মানিতে বাবা দিবস প্রতি বছর “ক্রিস্টি হিমেলফার্ট” (Christi Himmelfahrt) বা যিশু খ্রিষ্টের স্বর্গারোহণ দিবসে পালিত হয়। খ্রিষ্টান ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, পুনরুত্থানের ৪০তম দিনে যিশু স্বর্গে আরোহণ করেন। সেই দিনটিকেই স্মরণ করে এ উৎসবের সূচনা। ইস্টার সানডের ৩৯ দিন পর এই দিবস পালিত হয় এবং এটি সবসময় মে অথবা জুন মাসের কোনো এক বৃহস্পতিবারে পড়ে। ২০২৬ সালে দিবসটি পালিত হচ্ছে ১৪ মে।

জার্মানির সব ফেডারেল রাজ্যে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃত। ফলে সকাল থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহর, ছোট নগরী এবং গ্রামীণ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। পরিবার নিয়ে সময় কাটানো, পার্কে ভ্রমণ, নদীর ধারে পিকনিক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে দিনব্যাপী আড্ডায় মেতে উঠেছেন অনেকেই।
তবে জার্মান সংস্কৃতিতে বাবা দিবসের আরেকটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে। দেশটিতে এটি “হেরেনটাগ” (Herrentag) বা “ম্যানারটাগ” (Männertag) নামেও পরিচিত, যার অর্থ “পুরুষ দিবস”। এদিন বহু পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে বাইরে বের হন এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আয়োজনের মাধ্যমে সময় উপভোগ করেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও শহরতলিতে হাইকিং, সাইকেল ভ্রমণ এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।
এই উৎসবের অন্যতম জনপ্রিয় অংশ হলো “বোলারভাগেনট্যুর” (Bollerwagentour)। এতে অংশগ্রহণকারীরা ছোট কাঠের বা ধাতব হাতগাড়ি সাজিয়ে তাতে খাবার, পানীয় ও ভ্রমণের সামগ্রী নিয়ে দীর্ঘ হাঁটা বা ভ্রমণে বের হন। অনেক সময় গান, হাসি-আড্ডা এবং স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতির আবহও এই আয়োজনে যুক্ত হয়। তরুণ থেকে মধ্যবয়সী—বিভিন্ন বয়সের পুরুষদের মধ্যে এ আয়োজন ব্যাপক জনপ্রিয়।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, উনিশ শতকের শেষ দিকে জার্মানিতে বাবা দিবস ধীরে ধীরে সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়। প্রথমদিকে এটি ছিল মূলত ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও পারিবারিক উদযাপনের অংশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের সামাজিক মিলনমেলা এবং বন্ধুত্ব উদযাপনের একটি সাংস্কৃতিক রূপ এতে যুক্ত হয়। বর্তমানে এটি জার্মান সমাজের অন্যতম প্রাণবন্ত সামাজিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যাটারটাগ কেবল পিতাদের সম্মান জানানোর দিন নয়; এটি পরিবার, বন্ধুত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক। ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও মানুষকে কাছাকাছি আনার একটি উপলক্ষ হিসেবে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে সরকারি ছুটির কারণে জার্মানির বিভিন্ন পর্যটন এলাকা, পার্ক ও আউটডোর বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষও অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকে জন্ম নেওয়া জার্মানির ভ্যাটারটাগ এখন কেবল একটি দিবস নয়, বরং দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।