ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কঠিন ও জটিল বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের সিদ্ধান্ত যতটা সহজ, সেখান থেকে কার্যকর উপায়ে বেরিয়ে আসা ততটাই কঠিন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছে।
সোমবার জার্মানির মার্সবার্গ শহরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, যেখানে সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে। তিনি আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘ সংঘাত শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে ওঠে।
জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো অনুভব করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক পরিবহন ও শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাঁর মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংঘাত বন্ধ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে জার্মানি মাইন অপসারণকারী জাহাজ মোতায়েন করতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব এখন ইউরোপীয় নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।