ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়ান নিউজ সাইটসহ বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম শহর অকল্যান্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নাগরিক সংগঠন উপহার হিসেবে দেওয়া ‘কমফর্ট উইমেন’ থিমের ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে নিউজিল্যান্ডে নিযুক্ত জাপানি দূতাবাস। জাপানের দাবি, এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ক্ষতি করতে পারে। এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইতিমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রোঞ্জ তৈরি এই ভাস্কর্যটিতে একটি খালি চেয়ারের পাশে এক কিশোরী বসে থাকা দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিক বাহিনীর যৌনদাসত্বের (কমফর্ট উইমেন ব্যবস্থা) শিকার হওয়া নারীদের স্মরণে এটি তৈরি করা হয়েছে। ভাস্কর্যটি ‘বেঁচে যাওয়াদের সাহস ও সহনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, শান্তি ও স্মৃতি সংরক্ষণের প্রচার এবং মানবাধিকার শিক্ষার সমর্থনে’ স্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ জাপানি পক্ষকে চরম অসন্তুষ্ট করেছে।
অকল্যান্ড সিটি কাউন্সিলে জমা দেওয়া এক নথিতে নিউজিল্যান্ডে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত মাকোতো ওসাওয়া বলেন, “জাপান সরকার এই সমস্যার অস্তিত্ব অস্বীকার বা একে ছোট করে দেখার কোনো ইচ্ছা পোষণ করে না।” তবে তিনি একই সাথে দাবি করেন, “এই বিষয়ের প্রতি অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টি আকর্ষণ” শুধু জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া সহযোগিতায় বাধা দেবেই না, বরং এটি জাপান-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংস্থা বলছে, প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো “সেই সব কিশোরী ও তরুণীদের ওপর চালানো সহিংসতাকে স্বীকৃতি দেওয়া।” ওই সংস্থার চেয়ারপার্সন রেবেকা জ্যান বলেন, জাপান যেভাবে “পৃথিবীর অন্য প্রান্তের নারীদের স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভকে দমন করার নগ্ন চেষ্টা চালাচ্ছে,” তা সত্যিই স্তম্ভিত করার মতো। সূত্র:শুয়েই-তৌহিদ-তুহিনা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।