ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়টিতে স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করলে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম দিয়ে সেখানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার সাথে কোনোভাবেই বিএনপি সংশ্লিষ্ট নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হঠাৎ একদল নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সেখানে দলীয় স্লোগান দেন এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়টির সামনে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে দলটির নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ডে জনমনে কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ভোররাতের ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষুব্ধরা কার্যালয়ের ভেতরে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন এবং হাতুড়ি-শাবল দিয়ে সামনের অংশে ভাঙচুর চালান। পরে কার্যালয়ের গেটে বড় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে আসবাবপত্র ও দেয়ালের আংশিক ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানোর অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, বিএনপি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। গত ১৫ বছর আমরা নির্যাতিত হয়েছি, কিন্তু এখন আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। রাতের আঁধারে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই ঘটনার সাথে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীর কোনো সম্পর্ক নেই।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানবীর আহম্মেদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ