হাসির ভিতর নিঃশব্দ আলো
– ফারুক সৈয়দ,পেন হাউস, সিল্কেবোর্গ।
আজ বিকেলের আলো নেমে আসে ধীরে-
তোমার মনে জমেছে হালকা ক্লান্তনা সারাদিনের ধুলোয়।
তুমি হয়তো জানালা খুলে বসে আছ,
চায়ের ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে কুয়াশার ভিতর।
আমি দূরে, আজ এক শতাব্দী দূরে,
অথচ অনুভবে জানি
তোমার নরম হাসি ভেসে আসে বাতাসে,
যেন কাঁচমতি নদী বয়ে চলে
নিঃশব্দে, অশ্বত্থের পাশে, চন্দনের টানে।
তুমি হাসলে –
পৃথিবীর সমস্ত গ্লানি যেন ঝরে যায়;
শুকনো পাতাঝরার কান্নাও তখন
লাগে নতুন সঙ্গীতের মতো।
তোমার চোখে তখন গোধূলির আলো,
আর আমি মনে মনে ভাবি-
এ আলো কি তোমার,
নাকি কোনো পুরোনো দিন
ফিরে এসেছে ছদ্মবেশে?
তুমি জানো না,
তোমার এক ফোঁটা হাসিতেই জন্ম নিয়েছে এক কবিতা;
যেমন অন্ধকারে জন্ম নেয় তারা,
অসীম নীলের গভীরে।
আমার কলম নাচে, কিন্তু শব্দগুলো সব নীরব থাকে-
কারণ ঋক্ষের জানা আছে,
তোমার হাসিতেই আছে এক অন্তহীন বিষাদ,
যা প্রকাশ করা যায় না।
তবুও তুমি হাসো –
আমি শুনি, দূরের ডাহুকের ডাক শেষবারের মতো,
নদী ফিরে যায় তার ছায়ার ভেতর,
আর আমি ছন্দবদ্ধ করি ছোট এই পঙক্তি –
‘তুমি না থাকলেও, তোমার হাসি রয়ে যায়।’
রাত নামে ধীরে,
বাতাসে গাছের দোলায় শব্দ ওঠে,
আমি দেখি-
চাঁদ যেন তোমার মুখের মতো নির্লিপ্ত ও শান্ত,
আর পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে ধীরে।
আমি ফিরে যাই শব্দের বনে
তোমার এক নিঃশব্দ আলোর ভিতর॥