গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: স্বামীর একতরফা তালাকনামার নোটিসের খবর শোনে রোজিনা আক্তার (২০) নামে এক তরুনী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা যায়, রোজিনা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ধূরুয়া আগপাড়া এলাকার কেরামত আলীর কন্যা। বিবাহ-বিচ্ছেদের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ৯ জুলাই নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এসময় পরিবারের লোকজন তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনে। ঘটনার পর থেকে রোজিনাকে তার পরিবারের লোকজন নজরে রাখছেন।
রোজিনার ভাই হেলিম মিয়া জানান, প্রতিবেশী মৃত ইন্তাজ আলীর পুত্র আতিকুর রহমানের (২৭) সাথে তার বোনের প্রেমের সম্পর্কের জেরে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রেজিষ্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর যৌতুক দিতে না পারায় আতিকুরের পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেননি।
ফলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। ঢাকায় বসবাসকালে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য রোজিনাকে প্রতিনিয়ত মারধর করত আতিকুর। টাকা দিতে না পারায় এক পর্যায়ে তাকে ঢাকায় একা ফেলে রেখে বাড়িতে চলে আসে আতিকুর।
সম্প্রতি ঢাকা থেকে এসে ধূরুয়া গ্রামে রোজিনা তার শ্বশুরবাড়িতে উঠলে স্বামী আতিকুর ও তার পরিবারের লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এনিয়ে গ্রামে বেশ কয়েকটি দেন-দরবার হলেও দরবারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আতিকুর ও তার পরিবার।
এদিকে আদালতের মাধ্যমে রোজিনাকে একতরফা তালাক দিয়ে ৭ জুলাই রামগোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নিকট নোটিস প্রেরণ করা হয়। এ খবর পেয়েই গত ৯ জুলাই সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
রোজিনা জানান, তিনি তার স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চান। যদি তার স্বামী তালাকনামা প্রত্যাহার না করে তাহলে সে আত্মহত্যা করবে। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে আতিকুরের মুঠোফোনে কল করা হলে তার সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি একতরফা তালাকনামার নোটিস প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করেছেন সাংবাদিকদের সাথে।