বিশ্ব ধরিত্রী দিবস আজ মঙ্গলবার। দিবসটি প্রতিবছর ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। পৃথিবীর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও মমত্ববোধকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর ধরিত্রী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী’। এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়ণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র’র (ক্যাপস) যৌথ উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস ২০২৫: বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর প্রভাব রোধ করে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাত্রা করাই সময়ের দাবি। কারণ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রধান ভুক্তভোগী দেশগুলোর একটি। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা-সব মিলিয়ে এখানে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বেড়ে চলা জ্বালানি চাহিদা পূরণে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বিরাজমান। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ এখনো গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
যদিও বাংলাদেশ মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন করে, তবুও এই পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব এখানেই সবচেয়ে বেশি পড়ছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমন ও বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ছে, যা দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত-এসবই জলবায়ুর পরিবর্তিত আচরণের পরিণতি।
উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী জার্মনাবাংলা নিউজ চ্যানেলকে বলেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ জ্বালানি ভবিষ্যৎ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রশ্ন নয়, এটি ন্যায্যতা, পরিবেশ ও প্রজন্মান্তরের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই এখনই সময়, বিদেশনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে স্থানীয় ও টেকসই উৎসকে কেন্দ্র করে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাওয়ার। তিনি আরো বলেন, নবায়ণযোগ্য উৎস্য যেমন সৌর, বায়ু ও জৈবজ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং কার্যকর নীতি সহায়তা। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।