গাজীপুরে সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা। স্থানীয় জনতার ঐক্যবদ্ধ বাধার মুখে পালিয়ে যায় লুটপাটকারীরা ।
শুক্রবার ৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে আটটার দিকে মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকার দাক্ষিণখানে ওই মন্ত্রীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।এলাকাবাসী জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি গ্রুপ সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই লুটপাট চলাকালে তারা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটায়। টের পেয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় মাইকে সবাইকে তা প্রতিরোধ করার জন্য ডাক দেন। ধীরাশ্রমসহ পার্শ্ববর্তী ভাড়ারুল দক্ষিণ খান, হায়দারাবাদ এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে লুটপাট কারীদের বাধা দেন ও বেধড়ক পেটান। পিটুনিতে লুটপাটকারি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩৫ জনের মতো আহত হয়। কতক লুটপাটকারি হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে নটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা খবর পেয়ে আকম মোজাম্মেল হকের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং পিটুনির কবল থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহতদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় গাজীপুর তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে থেকে পাঁচজন আশঙ্কাজনক থাকায় তাদেরকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। তারা হলো শাহরিয়া, কাসেম, হাসান, সৌরভ ও ইয়াকুব। তাদের বয়স ২২থেকে ২৪ বছরের মধ্যে । এদিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিদ আলম ও আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ গভীর রাতে গাজীপুরে আহতদের দেখতে আসেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের বাড়ি ঘিরে রাখে সারাদিন।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রাজবাড়ী এলাকায় শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দান কালে বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের অফিস আস্তানা থাকবে না, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে ।হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ সমাবেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম , মহানগর পুলিশ কমিশনার , গাজীপুর পুলিশ সুপারসড় জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি করেন ।
বিকেল তিনটার দিকে ওই সমাবেশে যুক্ত হন সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ । প্রতিবাদ সমাবেশে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান। এ সময় তিনি বিক্ষোভ সমাবেশে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন গাজীপুরে ফ্যাসিবাদদের স্থান নাই। ২৪ হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটক করা হবে। প্রশাসনে কোন ফ্যাসিবাদ সমর্থিত পুলিশ থাকবেনা।
মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম হাত জোর করে শিক্ষার্থীদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তিনি আরো বলেন, সরকার ঘোষিত অপারেশন ডেভিল হান্ট’ র আওতায় গাজীপুরসহ সারাদেশ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে আজ থেকে । মহানগরের ধীরাশ্রম সহ আশেপাশে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসী গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া রয়েছেন। এলাকাবাসী লুটপাট ও ভাঙচুরকারীদেরকে ডাকাত বলে আখ্যা দিচ্ছেন। ধীরাশ্রম এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান জানান, আকম মোজাম্মেল হক এলাকার অহংকার। যার মধ্যে কোন দুর্নীতি নেই। জনপ্রিয় ওই নেতার বাড়ি ভাঙচুর করলে আমরা বসে থাকবো না। প্রয়োজনে জীবন দিব।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাবেক ওই মন্ত্রী গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন যিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন ইতিমধ্যে।এ দিকে গাজীপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক কার্যালয় বৈঠকে বসেছেন। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছে।