বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বসন্ত এসে গেছে বেশ কিছু দিন আগেই। বসন্তে নানা রঙের ফুলের সমারোহে মানুষের মনেও রঙ লেগেছে। আর সেই বসন্তের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে প্রবাসে থাকা বাঙালিদের মনেও। প্রকৃতির রঙের ছোঁয়ায় নিজেদের সাজিয়ে তুলতে গত ১১ই মার্চ জার্মানীর ইসেন (Essen) শহরে আয়োজন করা হয় ফাল্গুন মেলার। মেলার প্রধান আয়োজক ছিলেন (Saree markt) এর সত্বাধিকারী মেহজাবিন তানভির।

মেলা আয়োজনের প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্য, পণ্য সামগ্রী ও বাঙালি মজাদার খাবারের সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও জার্মানসহ অন্যান্য দেশগুলোর মানুষের সাথে পরিচিতো করানো।
মেলায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি (জামদানী, মনিপুরী, বুটিকস), কুর্তি, লেহেঙ্গা, ড্রেস, ও নানান রকম দেশীয় গহনার দোকান বসে। সামনে রোজার ঈদ থাকায় জার্মানীর বিভিন্ন শহর থেকে বাঙালিরা এসেছিলো ঈদের শপিং ও বসন্তকে বরণ করতে। বাঙালি মানেই ভোজন রসিক। তাই দেশীয় মজাদার খাবারের স্টলও ছিল মেলা প্রাঙ্গণে। খাবারের মধ্যে ছিল বিরিয়ানি, ফুসকা, চটপটি, হালিম, সিঙ্গাড়া , কাবাব ও নানান রকমের সুস্বাদু শীতের পিঠা।

প্রবাসে সবাই যেহেতু ব্যস্ততম দিন পার করে তাই অনেকে হয়তো এইসব দেশীয় মুখরোচক খাবারগুলো সবসময় বানিয়ে খাওয়ার সময় পাইনা। তাইতো মেলার খাবার খেয়ে অনেকেই ফেইসবুকে প্রশংসা করেছেন, যেটা মেলায় অংশগ্রহণ কারীদের অনুপ্রাণিত করেছে। মেলায় শুধু বাংলাদেশীরা নয় ইন্ডিয়া, পাকিস্তানি, নেপাল ও জার্মানীসহ অনেকেই অংশ নিয়ে বাঙালি খাবার ও পোশাক গ্রহণ করে আনন্দে মেতে ওঠে। আনন্দের বিষয় জার্মানিতে বাঙালির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বল্প পরিসরে এই আয়োজনে জার্মানির দূর- দুরান্ত থেকে বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দেয় দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা সত্বেও বাংলা সংস্কৃতি আমাদের সকলের চিন্তা, চেতনা ও মননে কতটা ধারণ ও লালন করে। বাংলা সংস্কৃতি বিকশিত হোক পৃথিবী ব্যাপী।সূত্র: শায়লা পিংকি, গেলজেনকিরসেন, জার্মানি।