বৈশ্বিক মহামারি করোনার তাণ্ডবে জার্মান প্রবাসীদের জনজীবনেও ঘটেছে ছন্দপতন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের কঠোর বিধিনিষেধে একত্রিত হয়ে আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করতে পারেননি প্রবাসী বাঙালিরা। জীবন সুরক্ষায়- সমাজ বিচ্ছিন্ন চলাফেরা আর ঘরবন্দি জীবনযাপনে হাফিয়ে উঠছিলেন তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা, বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররাও ভুগছিল নানা অস্বস্তিতে। জার্মান সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ও সাধারণ জনগণের সচেতনতায় বর্তমানে দেশটিতে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি। স্বাভাবিক হয়ে আসছে সব কিছু। এ অবস্থায় জার্মানির মানহাইম শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্রিল পার্টি।
জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে তিন শতাধিকের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী এই ঈদ পুনর্মিলনী ও গ্রিল পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন। শিশু-কিশোর ও ফ্যামিলিসহ বিপুল মানুষের সরব উপস্থিতিতে মানহাইম শহর পরিণত হয়েছিলো প্রবাসীদের মিলনমেলায়। গল্প-আড্ডা, স্মৃতিচারণ, বাহারি খাবার গ্রহণ ও পরিবেশন এবং মুক্তপরিবেশে শিশু-কিশোরদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিলো চোখে পড়ার মতো।
জার্মানির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেওয়ান সফিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আয়োজিত হয় এই ঈদ পুনর্মিলনীর বিশেষ আকর্ষণ ছিলো নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী বংশদ্ভোদ তাদের ভালো ফলাফল এবং সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।
দেওয়ান সফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানটি করে আসছেন তিনি। করোনার কারণে গত দুই বছর তা করা সম্ভব হয়নি। করোনা পরবর্তী আবার বিশাল এই আয়োজনে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই কষ্ট দূর হয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজম্নের ছেলে-মেয়েরা হেসে- খেলে আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পুরো অনুষ্ঠানটিকে যেভাবে আকর্ষণীয় করেছে তা ভুলার নয়।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি শিখানোর জন্যই এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছেন বলে জানান দেওয়ান সফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বাহার উদ্দিন চৌধুরী, ফারুক আহমেদ, আব্দুল বাশির, নাসির উদ্দিন ভুঁইয়া, সেলিম উদ্দিন, বেনজির আহমেদ শাহিন, আব্দুর রহমান, আসিফ ইকবাল ভুঁইয়া, মাসুদ আলী, নিয়াজ হাবীবসহ আরও অনেকে।
এদিকে জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব, ভ্যাকসিন গ্রহণ করে করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব। আর এ জন্য সরকার ও সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।
