ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের কলকাতায় মেট্রোতে আলিঙ্গনরত অবস্থায় থাকার অপরাধে শহরের এক যুগলের কপালে গত সোমবার গণপ্রহার জুটেছে। আর এ ঘটনা ঘটিয়েছে সম্মিলিত একদল প্রতিবাদী প্রৌঢ়। এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় এখনো থামেনি। এই ঘটনায় নীতি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রগতিশীলরাও। রক্ষণশীল ভাবনায় বিশ্বাসী কেউ কেউ বলছেন, আলিঙ্গন একটি ব্যক্তিগত বিষয়, তা প্রকাশ্য দিবালকে জাহির না করাটাই শ্রেয়। তাঁরা মনে করেন, মেট্রোতে আলিঙ্গন করা অপরাধ এবং তার জন্য ওই যুগল উচিত শিক্ষা পেয়েছে। এখন অনেকেরই প্রশ্ন, জনসমক্ষে প্রিয়জনকে জাপটে ধরা কি অপরাধ? এতে কি ‘অভিযুক্ত’দের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
এর উত্তরে কী বলছে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, পুণে, লখনউ, আমদাবাদ তা জানিয়ে দিয়েছে জিনিউজ-
দিল্লি- ভারতের রাজধানীতে প্রেমিক যুগলরা প্রকাশ্যে আলিঙ্গনরত অবস্থায় ধরা পড়লে ৫০ টাকা জরিমানা করে পুলিশ। অনেক সময়ই পুলিশি হেনস্থার সম্মুখীন হয় যুগলরা। বাড়িতে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘুষও নেয় পুলিশ।
মুম্বাই- কোনো যুগলকে প্রকাশ্যে চুমু অথবা আলিঙ্গনরত অবস্থায় পাকড়াও করলে ১৯৫১ সালের বম্বে পুলিশ আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করতে পারে পুলিশ।
কলকাতা- যৌন অভিব্যক্তি নিয়ে কোনো যুগল প্রকাশ্যে চুমু অথবা আলিঙ্গন করলে তা আইনত অপরাধ। নন্দনের মতো সংস্কৃতির পীঠস্থানে চুমু অথবা আলিঙ্গন কোনো অপরাধ নয়। তবে কোনো ‘লাভার পয়েন্টে’ চুমু অথবা আলিঙ্গনে কোনো প্রতিবেশীর আপত্তি থাকলে সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে পুলিশ।
বেঙ্গালুরু- প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়লে এই শহরের পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। চেন্নাই-
এই প্রাচীন শহর প্রেমিকদের স্বর্গরাজ্য। আলিঙ্গনে এই শহর একেবারেই উদার। হায়দরাবাদ- নিজামের এই শহর এখনো রক্ষণশীল ভাবনায় বিশ্বাসী। যুগলদের অতি ঘনিষ্ঠতায় বেড়ি পরাতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হয়।
পুণে- প্রকাশ্যে চুমু অথবা আলিঙ্গনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারা অনুযায়ী অশ্লীলতার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। দোষ প্রমাণ হলে কারাদণ্ডও হতে পারে। লখনউ- প্রকাশ্যে চুমু অথবা আলিঙ্গনে লখনউতে কোনো নির্দিষ্ট আইনি বাধা নেই।
আমেদাবাদ- বিপি আইন ১১০ অনুযায়ী গুজরাটে প্রকাশ্যে চুমু এবং আলিঙ্গন বেআইনি।