ইস্টার সানডের ওই ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার দুই ঘণ্টা আগেও শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করেছিল ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী। ভারতের উর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শ্রীলঙ্কাকে প্রথম সতর্ক করেছিলো গত ৪ এপ্রিল। দেশটির ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) গত বছরের ডিসেম্বরে জঙ্গি গোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিদ জামাতের (এনটিজে) নেতা মৌলভী জহরান বিন হাশিমের কিছু ভিডিও পর্যবেক্ষণ করার পর কলম্বো সরকারের কাছে ওই সতর্ক বার্তা পাঠায়।
ওই সতর্ক বার্তায় শ্রীলঙ্কার গির্জা ছাড়াও কলম্বোর ভারতীয় হাই কমিশনে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিলো।
দ্বিতীয় সতর্ক বার্তাটি পাঠানো হয় হামলার মাত্র একদিন আগে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, তারা ওই বার্তায় কোথায় কোথায় হামলা হতে পারে তার সম্ভাব্য তালিকাও দিয়েছিলেন। আর প্রথম সতর্ক বার্তাটির চাইতেও দ্বিতীয়টিতে হামলার লক্ষ্যবস্তুলো সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ করা ছিলো।
আর সবশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিলো শ্রীলঙ্কার তিন গির্জা ও চার হোটেলে বোমা হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। সেখানে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছিলো ভারতীয় গোয়েন্দারা। একই কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।
শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের উচ্চপদস্থ দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রথম বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা আগেই ভারতীয় গোয়েন্দারা শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় গোয়েন্দারা নির্দিষ্ট করে বলেন, গির্জায় বিস্ফোরণের মতো হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ এবং বিদেশিদের সঙ্গে মিশে রয়েছে বলেও সাবধান করে দেওয়া হয় শ্রীলঙ্কাকে।
আর ভারতের এইসব আগাম সতর্কবার্তা পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে-ও।
সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি’কে দেয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের হামলার সম্পর্কে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা তা উপলব্ধি করতে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। কোথাও না কোথাও কোনও গাফিলতি ছিলো আমাদের। যে কারণে সেই তথ্য নিচু স্তরের কর্মকর্তাদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছানো যায়নি এবং আগাম সতর্কতা নেয়া সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদানের সুসম্পর্ক রয়েছে। যখনই কোনও প্রয়োজন হয়, নয়াদিল্লি আমাদের সাহায্য করে। সেই কারণেই জঙ্গিদের পিছনে বিদেশি কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী বা অন্য কোনও মদত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দাদের সাহায্য নিচ্ছি আমরা।’
কিন্তু জঙ্গিরা এখনও দেশে রয়েছে কিনা, থাকলে কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন শ্রীলঙ্কা সরকার।
অন্য দিকে মঙ্গলবার এক খবরে জানা যায়, ক্রাইস্ট চার্চে মসজিদে হামলার প্রতিশোধ নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বিক্রমসিংহে বলেন, ক্রাইস্টচার্চে হামলার আগেই শ্রীলঙ্কার এই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, রোববার ইস্টার সানডের দিনে গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৫৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরো ৫ শতাধিক মানুষ।
এ ঘটনার তিন দিন পর হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। মঙ্গলবার আইএসের মুখপাত্র আমাক থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি আইএস।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস/রয়টার্স