বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য সমন্বিত ইউনিভার্সেল কার্ড চালু, শিশুদের আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।
নাগরিকসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের জন্য আনন্দময় ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণদের কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, জলবায়ু, মানবনিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসনসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে সিজিএস পঞ্চমবারের মতো আয়োজন করেছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’। এবারের সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির কথা রয়েছে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।