জার্মানি থেকে ফাতেমা রহমান রুমা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ১৪ ফেব্রুয়ারি জার্মানি পৌঁছেছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।
জার্মানির মিউনিখে বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানিয়েছেন বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ শহরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থেকে আগত বিপুল সংখ্যক বাঙালি প্রবাসীরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফর উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী তাঁকে জার্মানির মিউনিখ শহরে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিউনিখ শেরাটন হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মিউনিখ বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। এর পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে মিউনিখের শেরাটন আরাবেলা হোটেলে যান। সেখানে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা মিউনিখে এসে পৌঁছান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই শেরাটন হোটেলের বলরুমে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী জমায়েত হন। মিউনিখ শেরাটন হোটেলে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল অভিনন্দন জানান ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নেতৃবৃন্দরা।
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে থেকেই একটা একটা করে দেশের নাম ঘোষণা করেন এবং সবার কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন এবং কুশল বিনিময় করেন ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মধ্যে আয়ের দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে খুবই আশাব্যঞ্জক কথা বলেন। পাশাপাশি জার্মানি তথা ইউরোপ প্রবাসী বাঙালিদের তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনীল দাশ গুপ্ত, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।
১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিপূর্বে ২০১৭ সালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছিলেন। এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নিরাপত্তা হুমকি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে দু’টি সেশনে প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন। শুক্রবার মিউনিখের ব্যাভেরিয়া হোফ হোটেলে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের বর্তমান সভাপতি ভলফগ্যাং ইসিঙ্গার জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি এবারের ৫৫তম সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৪০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১০০জন মন্ত্রীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
উৎসবমুখর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে প্রধানমন্ত্রী সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি করেন, চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ।