সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোটের চেয়ারম্যান শিবলুল আজম কোরেশি।
তিনি বলেন আমাদের দেশে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে সেন্টমার্টিন অন্যতম। এই পর্যটন কেন্দ্রকে যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ছাত্র-ছাত্রী, স্থানীয় জনগণ, দিনমজুর, কুলি, শ্রমিক, মৎসজীবি, চাকুরীজীবি, তরুণ উদ্যোক্তা, পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী, হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সরকার সেন্টমার্টিন ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা এবং রাত্রি যাপন ও পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরফলে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে উদবিগ্ন হয়ে পড়েছে। এখানে আর্থিক সংকট ও অভাব দেখা দিয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত। পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত অসংখ্য চাকুরীজীবি বেকার হয়ে পড়েছে। উদ্যোক্তারা পথে বসে গেছে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের এ গনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা ইতিমধ্যে নানা কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্তের পক্ষে অটল। এমতাবস্থায় জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি ও মানবিক সংকটের কথা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি ।
মতবিনিময় সভায় সেন্টমার্টিন’স দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন: সেন্টমার্টিন দ্বীপে গনবিরোধী সিদ্ধান্তের ফলে সেখানকার দশ হাজারের অধিক মানুষ আজ নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং তারা নানান সংকটের মধ্যে পড়েছে।
সেন্টমার্টদ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোট এর প্রচার সম্পাদক এবং ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এর সভাপতি ইমরানুল আলম বলেন “যেখানে বিভিন্ন পেশাকে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে সারা বিশ্বে, সেখানে নীতি নির্ধারণি পর্যায় থেকে সরাসরি যখন বলা হয় গণ মাধ্যমে যে পর্যটন কে আমি শিল্প মনে করি না, তার পর আর আশাবাদী হওয়ার সুযোগ থাকে না। পেশাকে বন্ধ করে দিয়ে পরিবেশ রক্ষার পরিকল্পনা আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে যে সেন্ট মার্টিনের জনগণ এবং পর্যটন উদ্যোক্তাদের পাশে তারা নেই। যা খুবই গর্হিত এবং মানবাধিকার বিরোধী। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন স্বীদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সংস্কার করা হোক”
মতবিনিময় সভায় টুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব) এর নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার এর নেতৃবৃন্দ, সেন্টমার্টিন’স দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোটের নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা, সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সেন্টমার্টিন, ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই-ট্যাব) এর নেতৃবৃন্দ, সেন্টমার্টিন দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বোট মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ, মৎসজীবি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি-ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (স্কুয়াব) এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।