সাতক্ষীরা-১ ভোটের সমিকরণে শঙ্কায় নৌকা!
মোস্তাক আহমেদ, কলারোয়া : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমিকরণ। জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় প্রার্থীজটের কারেন বিপাকে পড়েছে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে না থাকলেও মহাজোটের প্রার্থী জটের কারনে ভোটের লড়ায়ে রয়েছে সুবিধাজনক অবস্হানে। স্হানীয় সচেতন মহলের মতে, নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের তিন শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে ত্রি-মুখী লড়ায়ে বিপাকে পড়তে পারে আ.লীগের নৌকার প্রার্থী।
এই আসনের গত নির্বাচনী ইতিহাসে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা হয়েছে কিন্ত এবার মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় পাল্টেগেছে ভোটের মাঠের সমিকরণ। আসনটিতে এই প্রথম ত্রিমুখী নির্বাচনী লড়াই হতে যাচ্ছে এমনটি ধারনা স্হানীয়দের। যদিও হামলা-ভাংচুরের কারনে ধানের শীষ ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্হান করছেন।
সাতক্ষীরা-১ আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ৭জন প্রার্থীর মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি বর্তমান সংসদ অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও মহাজোটের অপর শরিক জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার এর মধ্যে।
কলারোয়া ও তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোজনিয়ে জানাগেছে, প্রথম থেকেই ভোটের মাঠ নৌকা প্রতিকের দখলে রেখে একক ভাবে গনসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারনা, পোস্টার টানানো, নির্বাচনী সভাসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তবে এর আগে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নের দাবিতে আন্দোলনরত আওয়ামীলীগের কর্মি-সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও কেন্দ্রের নির্দেশনায় প্রতিটি ইউনিট পৃথক পৃথক বর্ধিত সভা করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ে করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অভিযোগ, আমরা কোন গণসংযোগ বা প্রচার-প্রচারণা চালাতে বাধা দেয়ায় নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অবস্হানে পোস্টার আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মিরা ছিড়ে পানিতে ফেলে দিয়েছে এছাড়া অনেক স্হানে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। নেতা-কর্মিদের বাড়ীতে থাকতে দেয়া হচ্ছে না, অনেকে বাড়ী ভাংচুর ও মারপিট করে জখম করা হচ্ছে এদিকে পুলিশ কোন কারন ছাড়াই কর্মি-সমর্থকদের গ্রেফতার করছে। এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কলারোয়ায় সংলগ্ন শহীদ মিনার এলাকায় গণসংযোগের সময় উপজেলা আ.লীগের সভাপতির নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা স্বসস্ত্র হামলা চালায় পরে নেতা-কর্মিরা আমাকে রক্ষা করতে যেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমানসহ ৮ নেতা-কর্মি রক্তাত্ত জখম করে। এঘটনায় থানায় উল্টো আমাকে প্রধান আসামী করে ৪৬জন নেতা-কর্মির নামে মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের রক্তাত্ত জখম করা হয়েছি আবার একই ঘটনায় মামলার আসামীও করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তবে, সুবিধাজনক অবস্হানে থাকা লাঙ্গল প্রতীকের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত কলারোয়া ও তালা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করে সাধারণ জনগনকে নিজের পক্ষে আনতে অনেকটায় স্বক্ষম হয়েছেন। তবে ১৪ ডিসেম্বর রাতের পর থেকে লাঙ্গল প্রতীকের একাধিক প্রচার মাইক ও প্রচারকৃত ইজিবাইক ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে আ.লীগের নেতা-কর্মিরা তাদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ১৫ ডিসেম্বর জেলা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এরপর থেকে তিনিও নির্বাচনের মাঠে ছেড়ে ঢাকায় অবস্হান করছেন।
এদিকে স্হানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টির দলীয় লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদারের কারনে ভোটের মাঠে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। ক্লিন ইমেজধারী হওয়ায় ও প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এলাকায় উন্নয়নের কারনে আগে থেকেই জনপ্রিয়তা এবং স্হানীয় আ.লীগের দীর্ঘ দিনের কোন্দলের কারনে অনেক ভোট লাঙ্গলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি হয়ে উঠতে পারেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রতিদ্বন্দি। অন্যদিকে প্রচার-প্রচারনা করতে না পারলেও ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে এগিয়ে রাখার কারন হিসেবে বলেন, নিজ দলের ও জামায়াতের ভোট পেলে তাদের হারানো আসন উদ্ধার করা অসম্ভব নয়। তাপরও ফলাফল যাই হোক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই হবে এটা নিশ্চিত।
আওয়ামীলীগ নেতাদের ধারনা, জাতীয় পার্টির সৈয়দ দিদার নিজের ক্লিন ইমেজের কারনে অনেক বিএনপি-জামায়াতের ভোট লাঙ্গল প্রতীকে আনতে সক্ষম হবেন। সেক্ষেত্রে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ক্ষতি গ্রস্ত হবে আর এই সুযোগে এগিয়ে যাবেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
এবিষয়ে মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, তালা ও কলারোয়ার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন আমাদের নির্বাচনে এনেছে অথচ নির্বাচনে মাঠের চিত্র সম্পুর্ন বিপরীত, বিরোধী কোন দলকে প্রচার করতে দিচ্ছে না। পুলিশের হয়রানী মূলক গণগ্রেফতার, ক্ষমতাশীন দলের সন্ত্রাসীরা দলের কর্মী-সমর্থকদের মারপিট করে প্রচার-প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে তিনি বলেন, এভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে ভোট নিরপেক্ষ হলে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ দিদার বলেন, আমি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে কলারোয়া, তালাসহ সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। গনসংযোগ করতে যেয়ে আমি খুশি হয়েছি এলাকার মানুষ আজ ও আমাকে মনে রেখেছে, এখনো আমার উপর আস্হা রাখতে চাই। তবে তার নির্বাচনী প্রচার মাইক-ইজিবাইক ভাংচুর করার পরও প্রশাসন ব্যবস্হা না নেয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশাকরি ভোটের দিন সাধারণ মানুষ ব্যালটেই এর জবাব দেবে।