জার্মানবাংলা অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান রিচার্ড স্পেন্সারকে অসদাচারণের অভিযোগে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার। নেভি সিলের ওই সদস্যের নাম এডওয়ার্ড গ্যালাঘার। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ হলো, তিনি মৃতদেহের সঙ্গে পোজ দিয়েছিলেন। এ অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। এডওয়ার্ড গ্যালাঘারের বিরুদ্ধে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হতে পারে। বিবিসির অনলাইনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে রিচার্ড স্পেন্সারকে কেন পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে তা নিয়ে নানা রকম বক্তব্য আছে।
হত্যার পর যুদ্ধবন্দির লাশের সঙ্গে ছবি তোলার ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হন নেভি সিল কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড গালেগার। এতে দোষী সাব্যস্ত হন ওই কর্মকর্তা।
নৌবাহিনী প্রধানকে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এস্পার বলেন, স্পেন্সারের ওপর তিনি আস্থা হারিয়েছেন। কারণ, তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যা বলেন প্রকাশ্যে তার বিপরীত অবস্থান নেন।
যদিও চিফ পেটি অফিসার গালেগারের বিচার এবং ‘মাত্রাতিরিক্ত সাজার’ বিষয়ে খুশি ছিলেন না ট্রাম্প। ধারণা করা হচ্ছে, এজন্যই স্পেন্সারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইরাকে ২০১৭ সালে দায়িত্ব পালনকালে পেটি অফিসার গালেগার ইসলামিক স্টেট-আইএসের এক বন্দিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং বেসামরিক ইরাকিদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হন।
অবশ্য গালেগারকে অন্য সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে আইএসের বন্দি যোদ্ধার লাশের সঙ্গে ছবি তোলার দুর্বল ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এজন্য তার পদাবনতি হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা পুনর্বহাল করেন।
এরপর পেটি অফিসার গালেগারকে গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তাকে ডিসিপ্লিনারি রিভিউর মুখোমুখি হতে হবে। ফলে নৌবাহিনী থেকে বহিষ্কারে ঝুঁকিতে পড়েন তিনি।
তবে নৌবাহিনীর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, একজন যোদ্ধার সদস্যপদ কেড়ে নিতে পারে না নৌবাহিনী।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমা করে দিয়ে সামরিক বাহিনীর একটি অংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।