রাজীবুল হাসান, ভৈরব প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মালিকানাধীন জব্বার জুট মিল বন্ধ ঘোষণায় বেকার হয়ে পড়েছে ৭শ শ্রমিক কর্মচারী ।
আজ শনিবার মালিক পক্ষ জুট মিল গেইটের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ দিয়ে বৃহৎ এই জুট মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে। পাটের বাজার দর বৃদ্ধি ও মিলে উৎপাদিত পাটের বস্তার মজুত বেড়ে যাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ মিলটি বন্ধ করতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে মিলে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ লাখ পিচ পাটের বস্তা মজুত থাকলেও এসব মজুকৃত মাল বিদেশে বিক্রি করা যাচ্ছে না। মজুতকৃত বস্তা রপ্তানিযোগ্য পণ্য হওয়াই এসব পাটের বস্তা দেশীয় বাজারেও বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মালিক পক্ষ জানিয়েছেন।

বর্তমান বাজারে প্লাষ্টিক বস্তায় ছেয়ে গেছে এবং প্লাষ্টিক বস্তার দামও কম, তাই প্লাষ্টিক বস্তার সাথে পরতা করে পাটের বস্তা বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। ফলে দেশীয় বাজারে পাটের বস্তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। মিলটিতে প্রতিদিন ১০/১২ মেঃ টন পাটের বস্তা উৎপাদন হয়।
বিগত কয়েক মাসের উৎপাদিত বস্তা মিলের সবগুলি গুদামে মজুত রাখা হলেও এখন গুদাম স্বল্পতায় মালামাল (পাটের বস্তা) রাখার মত কোন গুদাম মিলে নেই। এছাড়াও বর্তমানে পাটের বাজার দর মণপ্রতি ৫শ টাকা বেড়ে ২ হাজার টাকা হয়ে গেছে। মাসাধিকাল আগেও পাটের বাজার দর মণ প্রতি দাম ছিল ১ হাজার ৫শ টাকা। সেই কেনা পাটের বস্তা এখন বিক্রি করা যাচ্ছে না, এখন ৫শ টাকা বাড়িয়ে পাট কিনে বস্তা উৎপাদন করে লোকসান দেয়াও সম্ভব নয় বলে কর্তৃপক্ষ জানান। এ কারণে মিলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে জব্বার জুট মিল মালিক আমীনুর রশীদ খান মামুন মোবাইল ফোনে জানান, জুট মিলে মজুত বেড়ে গেছে, গুদামে বস্তা রাখার মত জায়গা নেই।
অপরদিকে পাটের বাজার দর মণ প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমান বাজার থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে পাট কিনে উৎপাদন করলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লোকসান দিতে হবে। কাজেই শুধূ শ্রমিকদের স্বার্থ দেখে আমি লোকসান দিয়ে মিল চালানো সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া টাকাসহ ঈদ বোনাস দিয়ে আমি মিলটি বন্ধ করেছি। পাটের মালিকদের পাওনাও আমি ঈদের আগেই পরিশোধ করেছি। কাজেই মজুতকৃত মাল বিক্রির পর আমি মিলটি পূনরায় চালু করার চেষ্টা করব।