যশোর জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীকে ওয়ার্ডের বেডে হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের মারপিট করেছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়ার্ড বয় ও বহিরাগত একটি ক্লিনিকের কর্মচারী।
এ ঘটনায় বৈষম্যরবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সাধারণ শিক্ষার্থী জেসিনা মূর্শীদ ও মাসুম বিল্লাহসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলাকারীদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এরপর যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন যশোর সদর উপজেলার দাইতলা গ্রামের রিপন হোসেন (৪৫) এবং তার স্ত্রী আঞ্জুমানারা বেগম (৩৫)। হামলাকারীরা হলেন- যশোর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আসাদুজ্জামান (৫০) এবং ল্যাবস্কান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হেসেন (৪৫)।
আজ বুধবার ২১ আগস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগী রুগির বাবা রিপন হোসেন অভিযোগ করে জানায়, ‘বুধবার ভোর ৫টার দিকে আমার মেয়েকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করি। ভেতরে বেড খালি না থাকায় ওয়ার্ড এর বাইরে ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নেই। একপর্যায়ে ওয়ার্ডের ভেতরে বেড খালি হলে সেই বেডে আমার মেয়েকে হস্তান্তর করার চেষ্টা করি। এ সময় হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আসাদুজ্জামান এসে আমাদেরকে বাধাঁ দেয় এবং বলে এই বেডে ও তার রোগী উঠবে। আগে থেকে নাকি বেড ঠিক করা রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আসাদুজ্জামান রিপন হোসেনকে কিল ঘুষি দেয় একই সাথে রিপনের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও মারপিট করে আসাদুজ্জামান। ওয়ার্ড বয় আসাদুজ্জামানের সহযোগী জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে এসে পুনরায় রিপন হোসেনের উপর চড়াও হয় এবং তাকে মারপিট করে।’
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই শিক্ষার্থী জেসিনা মূর্শীদ প্রাপ্তি ও মাসুম বিল্লাহ জানান, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে যাই এবং মারধরের শিকার রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনি। এরপর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনায় জড়িত দুই হামলাকারীকে আমরা পুলিশে সোপার্দ করি। আমরা এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একটা হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় রোগীর স্বজনদের মারধর করবে এবং মহিলার গায়ে হাত তুলবে এটি একটি বড় ধরণের অপরাধ।
জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালের স্টাফ স্টাপ একজন নারীকে মারপিট করবে এটা খুবই নিন্দনীয়। মারামারির ঘটনায় ওয়ার্ড বয়কে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।’
জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার (ওসি) মো.আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যশোর জেনারেল হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় জড়িত দুই জনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি ছাত্ররা দেখছে। আমার কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।’