মো: নজরুল ইসলাম, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: আজ রোববার (২৮ অক্টোবর) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্তে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানিদের একটি ব্যাংকারে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ফেরার পথে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন তিনি।হামিদুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মহেশপুর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিজিবি ব্যাটালিয়ন তাঁর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ১৯৪৫ সালে ভারতের নদীয়া জেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পিতা আক্কাস আলী মণ্ডলের সঙ্গে হামিদুর রহমান পরিবারসহ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ খালিশপুর গ্রামে চলে আসেন এবং বসতি গড়েন। দরিদ্রতার কারণে তিনি পড়াশুনা করতে পারেননি। কৃষি কাজ শুরু করেন কিশোর হামিদুর রহমান। এরপর আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন। তারপর তিনি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। তাকে জেড ফোর্সের অধিন্যস্ত করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তে ধলাই পাক সেনা ঘাঁটি আক্রমণ করে মুক্তি বাহিনী। পাক সেনাদের দুটি মেশিনগান পোস্ট থেকে অবিরাম গুলিবর্ষণের মুখে ঘাঁটি দখল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ওই দুটি মেশিনগান পোস্ট ধ্বংসের দায়িত্বপড়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ওপর। তিনি জীবনবাজি রেখে গ্রেনেড চার্জ করে পাক সেনাদের মেশিনগান পোস্ট দুটি ধ্বংস করেন।
এ সময় পাক সেনাদের গুলিতে তিনি শহীদ হন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ধলাই সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির (তৎকালীন বিডিআর) পক্ষে স্থানীয়ভাবে একটি নাম ফলক স্বরুপ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয় বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে।
২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ধলাই সীমান্ত এলাকায় বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি সৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে ধলাই সীমান্তে ধলাই চা বাগানের জমি অধিগ্রহণ করে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।
ওই সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের লিখিত আবেদনে ও এলাকাবাসীর দাবিতে তৎকালীন সরকার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রাম থেকে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের মরদেহ বাংলাদেশে এনে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করেন।