জার্মানির শান্ত পরিবেশে বসবাস করেও হৃদয়ের টানে ফ্লোরেন্স ২০০৭ সাল থেকে এক মহৎ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, যার মূল লক্ষ্য-এই সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া।
‘স্কুল’ শব্দটা যেখানে এখনো স্বপ্ন-সেখানে ফ্লোরেন্সের উদ্যোগে কিছু ছেলেমেয়ে নিয়মিত ক্লাসে যায়, বই নিয়ে বসে। শুধু শিক্ষাই নয়, তিনি কাজ করছেন বিধবা নারীদের পুনর্বাসনেও। নির্মাণ করেছেন ন্যূনতম থাকার উপযোগী ঘর। এ এক নিঃশব্দ বিপ্লব, যা চলছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়।

এতসব কাজের অর্থসংস্থান কীভাবে? ফ্লোরেন্স নিজের হাতেই রান্না করেন খাবার। সেই খাবার বিক্রির আয়ে কিছু অর্থ জোগাড় হয়। পাশে দাঁড়িয়েছেন জার্মানির কিছু বন্ধু। আরও আয়ের জন্য প্রতিবছর সংগীত ব্যান্ড Ensemble Orient Express আয়োজন করে একবার করে কনসার্ট। এই অর্থই যায় স্কুল ও পুনর্বাসন প্রকল্পে।
এ বছর সংগীত অনুষ্ঠানে যন্ত্র শিল্পী ছিলেন-গিটারে বিজন মঞ্জু, পিয়ানোতে সুর তোলেন রাল্ফ স্নুরাওয়া, ক্ল্যারিওনেটে ছিলেন ফাল্গুনী রায়। সংগীত পরিবেশন করেন রঞ্জু সরকার ও ফ্লোরেন সরকার।
প্রামান্য চিত্র দেখানো হয় বাচ্চাদের এবং পুতুল নাচ দেখান রঞ্জু সরকার।
ফ্লোরেন্সের উদ্যোগ শুধু এখানেই থেমে নেই। বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধেও তিনি কাজ করছেন। মেয়েদের সচেতন করছেন তাদের অধিকার নিয়ে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস জোগাচ্ছেন।

এছাড়াও প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় Benefiz নামের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান। এই বেনিফিট ইভেন্টে ভারত ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকে, বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন থাকে, দেখানো হয় ডকুমেন্টারি। সারাদিন ব্যাপী এই আয়োজনের একমাত্র উদ্দেশ্য – মানবতার এই প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ।
ফ্লোরেন্সের এই নিরব প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, মহৎ কাজে রাষ্ট্র বা সংস্থার অপেক্ষায় থাকে না। একজন মানুষের ইচ্ছা, দায়বদ্ধতা আর ভালোবাসা থাকলেই পরিবর্তনের বীজ বপন সম্ভব। দরিদ্র শিশুদের জন্য স্কুল, বিধবাদের ঘর, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা ব্যক্তি উদ্যোগের তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।