শিরোনাম :
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট দেখছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান ডিজিটাল অপপ্রচারে জাপানের অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত এসসিও কাঠামোয় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী কিরগিজস্তান জাতীয় শ্রম পদক পেলেন তিন হাজারের বেশি কর্মী এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ:পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দিবে ইউনেস্কো সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়: ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফ্রাঙ্কফুর্টের অ্যাম্বিয়েন্ট মেলায় বাংলাদেশি পণ্য

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৪

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যমেলা হিসেবে স্বীকৃত ‘অ্যাম্বিয়েন্টে’ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের বাজার ধরতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। গত ২৫ বছর ধরেই এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা কনজিউমার পণ্য প্রদর্শন করে আসছে।

প্রতি বছরই জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অ্যাম্বিয়েন্টে প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়। ভোগ্যপণ্য মেলায় প্রদর্শনীতে শুধু বাণিজ্য নয়, পৃথিবী জুড়ে সৃজনশীলতারও মেলবন্ধন হয়। প্রদর্শনীটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচিত বাণিজ্য মেলাগুলোর একটি।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আন্তর্জাতিক আমবিয়েন্ট ফেয়ার বা গৃহস্থালীর তৈজসপত্র মেলায় সারা বিশ্বের ১৭০টি দেশের ৪ হাজার ৯২৮টি কোম্পানি তাদের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মাধ্যমে ১২টি সহ সর্বমোট ৪৮টি কোম্পানি এবারের মেলায় এসেছে। বাংলাদেশ স্টল উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশে দূতাবাসের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মো. সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোপাল চন্দ্র।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আন্তর্জাতিক মেলায় মাননীয় মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন,ফ্রাঙ্কফুর্টে দুটি বৃহৎ মেলা অনুষ্ঠিত হয় একটি হাইম টেক্সটাইল, অপরটি অ্যাম্বিয়েন্টা। বিশ্বে গার্মেন্টস রপ্তানিতে দ্বিতীয়, চীনের পর এবং জার্মানি আমাদের দ্বিতীয় রপ্তানির গন্তব্যস্থল। জার্মানিতে আমরা সাত বিলিয়ন ইউ এস ডলার রপ্তানি করি যার ৯৪% গার্মেন্টস পণ্য। কিন্তু আমরা শুধু গার্মেন্টসের উপরে নির্ভরশীল থাকতে চাই না। রপ্তানির বহুমুখীকরণ দরকার।

পাট বাংলাদেশের সোনালী ফসল। বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পাট উৎপাদনকারী দেশ যা অতি উন্নতমানের। আমাদের কাঁচা পাট জার্মানির মার্সিডিজ গাড়ির ফ্রন্টডেস্ক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাগণ পাট দিয়ে ২৮২ ধরনের বহুমুখী পাঠজাত পন্য উৎপাদন করছে যা বিশ্বের ১৩৫ দেশের রপ্তানি হয়।

আমাদের অনেক উদ্যোক্তা চমৎকার পরিবেশ বান্ধব পাট পণ্যের সামগ্রী নিয়ে মেলায় এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে যেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সাথে বসবেন যাতে আগামীতে আরও বেশি উদ্যোক্তার এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় হতে প্রণোদনা দিয়ে জার্মানি সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহযোগিতায় মেলায় আসার ব্যবস্থা করবে।

মন্ত্রী মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল মিস্টার স্টেফান সুন্ডারের সাথে বৈঠক করেন। তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীবৃন্দদের মেসে ফ্রাঙ্কফুর্টের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো.মোশাররফ হোসেন ভূইয়া রপ্তানিমুখী পণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, সিরামিকসহ সকল রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বিদেশে বাংলাদেশী পণ্য জনপ্রিয় করার জন্য অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, বিশ্ববাজারে চাহিদা সম্পন্ন পণ্যগুলো উন্নত প্রযুক্তির আলোকে আধুনিক নকশায় উপস্থাপন করার জন্য আমাদের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করবো যাতে বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তা মেলায় অংশগ্রহণ করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে।

মেলায় আসা উদ্যোক্তা লিপি খন্দকার বলেন,এবারের মেলায় ক্রেতাদের যথেষ্ট ভিড় রয়েছে। আমি আশাবাদী এবার বেশ কিছু পণ্যের অর্ডার পাব। মাননীয় মন্ত্রী স্টল ঘুরে দেখেছেন, এতে আমরা উৎসাহিত হয়েছি।

আফসানা আসিফ বলেন,২০১৭ সাল থেকে আমি এই মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছি। মেলাটি রপ্তানি ও আমদানি কারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা প্ল্যাটফর্ম। এবারের মেলায় আধুনিক নকশায় বেশকিছু পণ্য আমরা নিয়ে এসেছি।

বিডি ক্রিয়েশনের ম্যানেজিং পার্টনার মোস্তফা আহমেদ পিয়াস বলেন, ২০১১ সাল থেকে বিডি ক্রিয়েশন মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছে। এবছর মেলায় ক্রেতাদের যথেষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। গত দুই দিনে আমরা অনেক পণ্যের অর্ডার পেয়েছি।

উল্লেখ বিডি ক্রিয়েশন, সান ট্রেড, কনেক্সপো ও এএসকে হ্যান্ডিক্রাফটস এই চারটি কম্পানি নিজস্ব খরচে মেলাতে অংশগ্রহণ করে।জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেলা চলবে।আমদানি রপ্তানি কারকদের কাছে এই মেলা আরোও আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD