শিরোনাম :
‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি জার্মানিতে একদিনে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দাবানল, কৃষি সংকট, জ্বালানির দাম, গোয়েন্দা সংস্কার ও ফ্রাঙ্কফুর্টে ধর্মঘট পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ শিল্প গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর কুরিল দ্বীপপুঞ্জে পুতিনের সফরে ক্ষুব্ধ টোকিও, কড়া প্রতিবাদ জাপানের সবুজ উন্নয়নের পথে চীন, প্রকৃতি সুরক্ষায় জোর দিচ্ছেন সি চিন পিং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে সব মার্কিন সেনা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টায় বন্ধ হবে শপিংমল ও দোকানপাট প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ

পুতিনের টার্গেট ইন্টারনেট

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

জার্মান-বাংলা ডেস্ক: একটা সময় ছিল, যখন টেলিভিশন ও বেতারই ছিল সংবাদ পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু টিম বার্নার্স লি ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর থেকে ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সংবাদের অনেকগুলো বিকল্প উৎস তৈরি হয়ে গেছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের একনায়ক ঘরানার শাসকেরা।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের দেশে শাসক হিসেবে একমেবাদ্বিতীয়ম। দিন দিন নিজের ক্ষমতার পরিধি তিনি বাড়িয়েই চলেছেন। এবার হাত দিয়েছেন ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। অন্তর্জালে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সব আয়োজন শেষ করে এনেছেন পুতিন। এবার জাল গুটিয়ে আনার পালা। এই কাজ শেষ হলেই রুশ ভার্চ্যুয়াল জগৎ নিয়ন্ত্রণের ‘সুইচ’ চলে আসবে পুতিনের পকেটে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল। ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট যখন মিখাইল গর্বাচেভের বিরুদ্ধে ‘ক্যু’ সংঘটিত হয়েছিল, তখন সোভিয়েতের সব টিভি চ্যানেলে বিনোদনধর্মী অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছিল। বোকা বাক্সের সামনে বসে থাকা রুশ জনগণের বোঝারও উপায় ছিল না যে, দেশে ওলট-পালট ঘটে যাচ্ছে! ক্রেমলিনে তখন চলছিল বুলেট-বোমার কাব্য, আর রুশ জনগণের ড্রয়িংরুমের বোকা বাক্সে চলছিল নাচগান।

বোকা বাক্স দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর দিন এখন আর নেই। ইন্টারনেট পুরো পৃথিবীকে একটি ছোট গণ্ডির মধ্যে এনে ফেলেছে। সেই ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় নেওয়াও কঠিন। সেই কষ্টসাধ্য কাজটিই করতে চাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাবেক সোভিয়েত আমলের অভিজ্ঞতা থেকে ভালোই শিখেছেন একসময়কার এই কেজিবি এজেন্ট। তিনি বুঝেছেন যে, জনগণকে যত কম জানানো যায় ততই মঙ্গল। এরা যত বেশি জানে, তত বেশি বোঝে! সুতরাং জনগণের জানা-বোঝার সুযোগ সীমিত করে দেওয়াই ক্ষমতা সংরক্ষণের উৎকৃষ্ট উপায়।

রুশ সংস্থা লেভাদা সেন্টার সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে। তাতে দেখা গেছে, টেলিভিশনের ওপর রাশিয়ার জনগণের আস্থা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম টিভি চ্যানেলের ওপর রুশদের আস্থার পরিমাণ ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। উল্টো দিকে তথ্যের ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের ওপর রুশদের আস্থা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। যদিও রাশিয়ার বয়স্ক মানুষেরা এখনো টেলিভিশন থেকে সংবাদ পেতেই অভ্যস্ত, কিন্তু ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইন্টারনেটনির্ভরতা অনেক বেশি।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাশিয়ায় জাতীয় টেলিভিশনের একচেটিয়া আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে ইউটিউব। রাশিয়ার ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৮২ শতাংশই সংবাদ পেতে ইউটিউবে চোখ রাখছেন। রুশদের মধ্যে ইউটিউবে সংবাদ খোঁজার প্রবণতা বেশি। রাশিয়ায় পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অন্যতম আলেক্সেই নাভালনি। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে তাঁর খবরাখবর আসার আশা নেই। তাই দুটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচার করছেন নাভালনি। গত বছর এই দুটি ইউটিউব চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার পান তিনি।

অর্থাৎ এটি স্পষ্ট যে, খবরের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক উৎসের প্রতি রুশদের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। আর এতেই কপালের ভাঁজ বাড়ছে পুতিনের। ক্রেমলিন এখন সরকারবিরোধী প্রোপাগান্ডা থামাতে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজছে। লন্ডনের কিংস কলেজের শিক্ষক ও রুশ ইন্টারনেট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি আসমোলোভ বলেন, ‘ইন্টারনেটকে কীভাবে টিভি চ্যানেলে রূপান্তর করা যায়—সরকার এখন সেই চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, এর জন্য শুধু কঠোর নিয়মকানুন যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট অবকাঠামো ও কনটেন্টের প্রবাহের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।

পুতিনের সরকার সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। সরকারবিরোধী কথাবার্তাকে ‘ফেক নিউজ’-এর তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় ফেক নিউজ প্রতিরোধে নতুন আইন পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই আইনে স্বাক্ষরও করে দিয়েছেন। নতুন আইনের আওতায়, যে তথ্যকে সরকারের কাছে মিথ্যা বলে মনে হবে, তা নিষিদ্ধ করে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া যে তথ্যকে জনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কারণ বলে মনে করবে সরকার, সেটিও নিষিদ্ধ করা যাবে। এর শাস্তি হিসেবে ৪ লাখ রুবল (প্রায় ৬ হাজার ১০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে যেকোনো ওয়েবসাইট ব্লকও করে দিতে পারবে সরকার।

বিজনেস ইনসাইডার অবশ্য বলছে, যে দোষের শাস্তি নিশ্চিত করতে এই আইন পাস করা হয়েছে, সেই দোষে দুষ্ট রাশিয়াই! বিশ্বে যত ফেক নিউজ তৈরি হয়, তার একটি বড় অংশই আসে রাশিয়া থেকে। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এই অভিযোগ করেছে। অন্য সরকার ও অধিকার সংস্থাগুলোও রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD