জার্মানবাংলা২৪ ডেস্ক: পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নির্বাচনি প্রচার সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে। এই বোমা হামলায় আহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়ে গেছে। বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির প্রার্থী সিরাজ রাইসানির সমাবেশে চালানো ওই হামলায় সিরাজ নিজেও নিহত হয়েছেন। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবাব আসলাম রাইসানির ভাই।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফায়েজ কাকার জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৩ জুলাই) বিকালে বেলুচিস্তানের মাসতাং শহরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সিরাজ রাইসানিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। বেলুচিস্তান সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টর আসলাম তারিন নিশ্চিত করেছেন, হামলাটি আত্মঘাতী বোমা হামলা ছিল। এতে প্রায় ১০ কেজির মতো বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা আলী মারদান বলেন, কুয়েত্তার প্রধান বেসামরিক হাসপাতালে কমপক্ষে ৭৩টি লাশ আনা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তা কাইম লাশারি বলেছেন, মাসতাঙয়ের নওয়াব গাউস বকশ হাসপাতালে আরও ৩৭টি লাশ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুয়েত্তার বোলান মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে ১২টি ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে একটি লাশ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারের হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।
নিহত সিরাজ রাইসানি বেলুচিস্তান মুত্তাহিদা মাহাজের (বিএমএম) প্রধান ছিলেন। পরে তার রাজনৈতিক দল নবগঠিত বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। তিনি পিবি-৩৫ (মাসতাং) আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে তার বড় ভাই নবাব আসলাম রাইসানির বিরুদ্ধেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল সিরাজ রাইসানির। আসলাম রাইসানি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১ সালেও একবার সিরাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় তার গাড়িতে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কিশোর ছেলে নিহত হয়।
নির্বাচনি প্রচারে মুখর পাকিস্তানে একই দিনে আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে দুররানির প্রাণ রক্ষা পেলেও ৪ জন নিহত হয়েছে।