শিরোনাম :
নারী শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, অনার্স পর্যন্ত সব খরচ বহন করবে সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ফের অনিশ্চয়তা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের ভাতা নিয়ে জটিলতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন রূপকথা তীব্র গরম-খরায় বিপর্যস্ত জার্মানি, দাবানল থেকে নদীর পানিসংকটে বাড়ছে উদ্বেগ সম্পাদকীয় : ১৫ আগস্ট ইতিহাসের স্মৃতি মুছে নয়, সত্যকে ধারণ করেই এগোতে হবে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন গতি জার্মানিতে একদিনে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: দাবানল, কৃষি সংকট, জ্বালানির দাম, গোয়েন্দা সংস্কার ও ফ্রাঙ্কফুর্টে ধর্মঘট পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ জাহাজ শিল্প গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

নারী শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ, অনার্স পর্যন্ত সব খরচ বহন করবে সরকার

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফলাফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।’

তিনি স্থানীয় নারী শিক্ষার্থী ও মেয়েদের উদ্দেশে বলেন, পড়াশোনায় তাদের আরও মনোযোগী হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। ভালো ফলাফল করা নারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।’

নারী শিক্ষার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বছরে একবার করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’

এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই সরবরাহ করাই নয়, তাদের শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ নিশ্চিত করার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ব্যাগ ও পোশাক সরবরাহ করা হলে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়বে বলে সরকার মনে করছে।

নারীদের শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারী সমাজকে একদিকে শিক্ষায় এগিয়ে নিতে হবে, অন্যদিকে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবারপ্রধান নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কিশোরগঞ্জে এরই অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী শিক্ষা, মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।

সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD