জার্মানবাংলা রিপোর্ট: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গির্জাগুলো ফুল, রঙিন কাগজ আর আলোয় আলোয় সাজানো হয় মনোরম সাজে। ক্রিসমাস ট্রিতে ঝোলানো হয় আলোর মালা । বানানো হয় খ্রিস্টের জন্মের ঘটনার প্রতীক গোশালা। সেই সঙ্গে বড়দিনের কেক। গতকাল বড়দিন হলেও সোমবার রাত থেকেই উৎসবে মেতে ওঠেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। বড়দিন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় রাজধানীসহ সরা দেশে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি।
বড়দিন উপলক্ষে বঙ্গভবনে খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চারদিন বাকি রয়েছে। আমি আশা করছি যে, দলমত নির্বিশেষে আপনারা সবাই নির্বাচনের দিন আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আগামী দিনগুলোতে সুখী, সমৃদ্ধ ও আনন্দময় জীবন কামনা করে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের লোকজনের প্রতি শুভেচ্ছা জানান তিনি। এদেশে দীর্ঘদিন ধরে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে এই সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যিশু খ্রিস্টকে মুক্তির দূত ও আলোকবর্তিকা অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, যিশু খ্রিস্ট বিশ্বে শান্তির বাণী প্রচার করেছেন এবং তার দর্শন ছিল ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা ও সমবেদনাভিত্তিক একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন- আমি মনে করি, যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা ও ধারণা এই সমস্যা জর্জরিত বিশ্বে শান্তি, সমপ্রতি ও বিভিন্ন জাতির মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণী রাশিদা খানম বঙ্গভবনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এখানে আলোকসজ্জাসহ একটি ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন করা হয়। কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশনের প্রতিনিধি, খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে ক্রিসমাস ক্যারোল পরিবেশন করে। পরে প্রেসিডেন্ট হামিদ খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে একটি ক্রিসমাস কেক কাটেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।
এদিকে, গতকাল বিভিন্ন চার্চে প্রার্থনায় শান্তি ও মঙ্গল কামনা করার পাশাপাশি বড়দিনে উৎসবের আনন্দেও মেতে উঠেছিলেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা। সকালে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হাজারও নারী-পুরুষ ও শিশু। তেজগাঁওয়ের হোলি রোজারিও চার্চে তিন দফায় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েক হাজার নানা বয়সী মানুষ মিলিত হন। বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে বর্ণিল করে সাজানো হয় চার্চ এলাকা, ক্রিসমাস ট্রি আর আলোকসজ্জা ছিল নজরকাড়া। চার্চ প্রাঙ্গণে ঢুকতেই প্রার্থনাকারীদের চোখে পড়ে যিশু কোলে মা মেরির বড় আকারের ভাস্কর্য, যার চরণে প্রণাম জানিয়ে পূজারীরা প্রবেশ করেন ভেতরে।