কাতারের রাজধানী দোহায় চলতি মাসের শুরুতে হওয়া হামলার জন্য দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানিকে ফোনে সংযোগ দেন নেতানিয়াহু। ওই আলাপে কাতারের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চান তিনি।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভুলবশত কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারানোর ঘটনায় নেতানিয়াহু গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া তিনি স্বীকার করেন, জিম্মি আলোচনা চলাকালীন সময়ে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলা কাতারের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া ফোনালাপটিকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জটিলতা নিরসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলাপের শুরুতেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু কাতারি ভূখণ্ডে আর কোনো হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করেছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় ক্ষমা প্রকাশ করেছেন।
নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে নেতানিয়াহু লিখেছেন, “আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবল হামাস, কাতার নয়। ভবিষ্যতে আপনার দেশের সার্বভৌমত্বের অবমাননা করার কোনো অভিপ্রায় ইসরায়েলের নেই।”
উল্লেখ্য, ৯ সেপ্টেম্বরের সেই হামলায় হামাসের পাঁচজন নিম্নপর্যায়ের সদস্যের সঙ্গে কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন। তবে হামাসের শীর্ষ নেতারা ওই আক্রমণ থেকে বেঁচে যান।