শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির কার্যকর প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী) উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথরেখা নির্ধারণে কাজ করে। দেশের শিশুরা কীভাবে বিকশিত হবে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তারই প্রতিফলন ঘটে এ প্রতিষ্ঠানে। শিশুদের মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শৈশব থেকেই পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ এবং তিনি প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ, জলবায়ু ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ নজর দেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
পারিবারিক পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও ছেলে-মেয়ের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজের জীবনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই উচ্চশিক্ষায় সমান সুযোগ এবং সম্পত্তিতে সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। ছেলে-মেয়ের মাঝে কোনো প্রকার বৈষম্য না রেখে পরিবার থেকেই এই সাম্য ও ইতিবাচক চর্চা শুরু করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির অপরিহার্য ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশজুড়ে পরিচালিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি কন্যাশিশু। শুধু পুঁথিগত পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ না থেকে আর্ট, মিউজিক, থিয়েটার ও খেলাধুলায় শিশুদের দক্ষ হতে হবে। কেননা, যেকোনো রাষ্ট্রের আসল শক্তি নিহিত থাকে তার ‘সফট পাওয়ার’-এর মধ্যে।
অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সৃজনশীল অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এর আওতায় দেশের থিয়েটার, চিত্রকলা ও চলচ্চিত্র শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার ও কুমারের মতো ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ পায়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত শক্তি, ধৈর্য ও উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছাঃ আরজু আরা বেগম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।
সূত্র: বাংলাদেশ শিশু একাডেমি / অর্থ মন্ত্রণালয়।