১২ নভেম্বর ( সোমবার ) দুপুরে জেনেভা জাতিসংঘ দপ্তরের নীচতলার ২২ নং রুমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাইড ইভেন্ট “ Human Rights Situation of Bangladesh @ UPR 4th cycle.
উক্ত সাইড ইভেন্টে প্যানেল স্পীকার হিসেবে যোগ দিতে আসা বাংলাদেশের আদালতে সাজাপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান (শুভ্র) বিভিন্ন অসত্য বক্তব্যর জন্য সচেতন দর্শক ও সিভিল সোসাইটি কর্তৃক প্রতিরোধের মুখে পড়েন এবং কিছুটা লাঞ্ছিত হন।

প্রতি ৪ বৎসর পর UPR 4 th Cycle এই বিশেষ মানবাধিকার সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সকাল থেকে বাংলাদেশের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী আনিসুল হক ও তাঁর নেতৃত্বে একটি উঁচ্চ পদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের চলমান পরিস্হিতিতি , আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেন। অধিবেশনে ১১১টি দেশের কূটনৈতিকগণ আলোচনায় অংশগ্রহন করেন এবং সেখানে কানাডা ও স্লোভাকিয়া ব্যাতিত ৯০ টি দেশ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দুপুর ১ টায় মূল অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নীচ তলার ২২ নং রুমে “ ক্যাপিটাল পানিসম্যান্ট জাস্টিস প্রোটেক্ট নামে একটি সংগঠেনের ব্যানারে মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান নামে একজন প্রবাসী বাংলাদেশী, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান মানবিধার বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দ্যেশে সাইড ইভেন্ট অর্গানাইজ করে, যেখানে আদালত কর্তক নিষিদ্ধ সংগঠন অধিকারের নেতা আদিলুর রহমান খানকে সম্পৃক্ত করে। অনান্য আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল স্পীকারদের পাশে বসে আদিলুর রহমান খান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার বিষয়ে একের পর এক অসত্য তথ্য ও আইনের শাসন মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

এসময় জেনেভাস্থ মানবাধিকারকর্মী ও ইন্ট্যান্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশের সুইস শাখার সভাপতি “ রহমান খলিলুর মামুন অসত্য তথ্যের প্রতিবাদ করে বলেন-জনাব আদিলুর রহমান খান একজন বিএনপি জামাত পৃষ্ঠপোষক। তিনি মানবাধিকারের নামে হেফাজত ইসলামের শাপলাচত্বরের ভায়োলেন্সকে উস্কানি দিয়েছেন সর্বমোট ৮ জন মৃতের নামের পরিবর্তে সরকার কে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে ৬১ জন মৃত লিখে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে রিপোর্ট পেশ করেন। জনাব খান মিথ্যা বানোয়াট রিপোর্ট পেশ করে , বাংলাদেশের নিম্ন আদলতে প্রমানিত হওয়ায় সাজাপ্রাপ্ত হন, মাত্র ৬৫ দিন জেল খেটে উঁচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে এখন তিনি জেনেভা জাতিসংঘে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কারণে তিনি আজ এখানে কথা বলছেন। তিনি বিচারালয় নিয়ে প্রশ্ন করার কি অধিকার রাখেন ?
বিএনপি জামাতের আগুন সন্ত্রাসের সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরে জনাব রহমান বলেন, আজকের শ্রদ্ধেয় প্যানেলিস্টগণ এ বিষয়ে কেন কথা বলেন না , সেটি মানবাধিকার সম্মেলনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পেরে , এ সময় আদিলুর রহমান বিব্রত বোধ করেন।
প্রশ্নত্তোর পর্বে ফ্লোর নিয়ে জেনেভাস্থ স্হায়ী বাংলাদেশের উপ-প্রধান মিসেস সঞ্চিতা হক
প্যানেলিস্টগণের বিভিন্ন ব্যাখ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং বর্তমান সরকারের সার্বজনীন মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করেন , যা উপস্থিত সুধী মহলে ভীষণ প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা থেকে সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি জমাদার নজরুল ইসলাম ও শ্যামল খান বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ফ্লোর চাইলে , মডারেটর আশরাফুজ্জামান ফ্লোর বন্ধ করে দেন। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানিয়ে এবং আদিলুর রহমান খানকে একজন সুবিধাবাদি মানবাধিকার ব্যবসায়ী হিসেবে আখ্যা দিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্যামল খান , জমাদার নজরুল ইসলাম ও সসীম বডুয়া। অর্ডিয়েন্স উত্তপ্ত হয়ে গেলে তোপের মুখে আদিলুর রহমান খান প্যানেল মঞ্চ থেকে দ্রুত নেমে বেরিয়ে যান।