প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম জার্মান প্রবাসী একজন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ফ্রাঙ্কফুর্টের পার্শ্ববর্তী শহর হানাউয়ের অধিবাসী শাহিন সিকদার ২৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দেশটির স্থানীয় সময় দুপুর ৩.১০ মিনিটে স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। (ইন্না-লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৮ বছর।
জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন। শাহিন সিকদারের বাড়ি বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে জার্মানিতে বসবাস করছেন। এই প্রথম কোন বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়ে জার্মানিতে মৃত্যুবরণ করায় বাঙালি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শাহিন সিকদারের পারিবারিক বন্ধু ফ্রাঙ্কফুর্টের সেভেন ডেজ শপের স্বত্বাধিকারী কামাল ভুঁইয়া জানিয়েছেন, শাহিন সিকদার করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। শাহিন সিকদার সহ একই সময়ে জার্মানি এসেছিলেন ফ্রাঙ্কফুর্টে বসবাসকারী কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সব সময় হাঁসি খুশি থাকা শাহিন সিকদার সাথের অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে যা কোনো দিন ভুলার নয়।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) তাণ্ডবে তছনছ পুরো বিশ্ব। ভয়ঙ্কর এই রোগের কার্যকর প্রতিষেধক এখনও বিশ্ববাজারে আসেনি। যে কারণে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে অবকালের চিরবিদায় নিতে হচ্ছে। যেন এক নির্বাক পরিস্থিতি। এদিকে জার্মানিতে হঠাৎ করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির নাগরিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বেশি করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। জানা যায় সম্প্রতি একটি ঘরোয়া পার্টির আয়োজন করে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। ওই পার্টিতে উপস্থিতির মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছে। বিশ্লেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মানিতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকারি নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কারণ গত এপ্রিল মাসের পর থেকে জার্মানি করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সক্ষম হলেও এখন আবার তা ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এই নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ২৭৯,২০৫ জন মানুষ করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ মানুষ। আর করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ হাজার ৫০৮ জন।