৫ ফেব্রুয়ারি থেকে জার্মানির ডুসেলডর্ফে শুরু হয়েছে “এশিয়া অ্যাপারেল এক্সপো ২০২৫”, যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তত্ত্বাবধানে ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরও ২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে।
এশিয়া অ্যাপারেল এক্সপো এশিয়ার পোশাক ও ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস, বার্লিনের সার্বিক সহায়তায় মেলায় অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে এবারই প্রথমবারের মতো বার্লিনের পরিবর্তে ডুসেলডর্ফে আয়োজন করা হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।

ডুসেলডর্ফে আয়োজিত এই মেলা চলবে ৫-৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত, যেখানে ইউরোপের বৃহৎ বায়ার ও ব্যবসায়ীরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশি প্যাভিলিয়নে রয়েছে নিট, ওভেন, ফ্যাব্রিকস, ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজ ও শিশুদের পোশাক নিয়ে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল। মেলার প্রথম দিন থেকেই ইউরোপীয় ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত এবং ইউরোপ এই শিল্পের অন্যতম বৃহৎ বাজার। এশিয়া অ্যাপারেল এক্সপো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস, বার্লিনের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর চৌ: মো.গোলাম রাব্বী বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্বব্যাপী এর উচ্চমান ও দক্ষতার জন্য ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। এই মেলা আমাদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ। ইউরোপীয় ক্রেতাদের আমাদের পোশাক পণ্যের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত, যা আমাদের চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে টিকে থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

প্রতিবছরের মত এবছরও মেলাটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের নতুন বাজার খোঁজার সুযোগ পাচ্ছে।
বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা আশা করছেন, এই প্রদর্শনী দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং ইউরোপীয় ক্রেতাদের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও অর্জন ভবিষ্যতে দেশের পোশাক শিল্পের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।