জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতুর রাজনৈতিক যাত্রাপথের নতুন সিদ্ধান্তকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা জিতু এবার যুক্ত হয়েছেন দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার যোগদান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। যোগদানের মুহূর্তে জিতুর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণআন্দোলন এবং রাষ্ট্রচিন্তার প্রতি তার গভীর প্রত্যয়।
জিতু বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি মৌলিক চেতনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই চারটি ঐতিহাসিক মূল্যবোধকে ধারণ করে ভবিষ্যতের রাজনীতির পথে এগোতে চাইলে বিএনপির বাইরে আর কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব তার রাজনৈতিক মতাদর্শকে দৃঢ় করেছে। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশপন্থী যে রাজনীতি দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, তা বিএনপির আদর্শেই সম্পন্ন হওয়া সম্ভব।
জিতুর সঙ্গে জাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। যদিও সবাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাদের নাম ঘোষণার মাধ্যমে এ যোগদান প্রক্রিয়াকে দলীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সালাম বরকত হল, নবাব সলিমুল্লাহ হল, আল বেরুনী হল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, নওয়াব ফয়জুননেসা হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলের ভিপি ও জিএস পদধারী নেতাদের যোগদান ছাত্রদলের সংগঠনগত সক্ষমতাকে আরও বর্ধিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বরাবরই দেশের বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে জাকসুর ভিপির বিএনপিতে যোগদান কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ভাবনার জন্ম দিচ্ছে। ছাত্রদলের নেতারা মনে করছেন, এই যোগদান ভবিষ্যতে সংগঠনটিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা বৃদ্ধি করবে।
সার্বিকভাবে, আবদুর রশিদ জিতুর এই সিদ্ধান্ত শুধু তার রাজনৈতিক পরিচয়ের নতুন যুগই সূচিত করল না, বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজে নতুন আলোচনা, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন গতিবেগ সৃষ্টি করেছে।