গত ১৪ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার একশ কোটি টাকার বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি।
টিআইবির তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রাক্কলিত পরিমাণ প্রায় ২৪৮ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ১১০ কোটি টাকারও বেশি। সংস্থাটি বলছে, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব, যোগসাজশ এবং স্বজনপ্রীতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। তবু সংশ্লিষ্ট জাতীয় তহবিল (বিসিসিটি) অনিয়ম রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রয়োজন ১২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস মিলিয়ে গড়ে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৮৬ মিলিয়ন ডলার— যা প্রয়োজনের মাত্র ০.৭ শতাংশ।
গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় তহবিলের প্রকল্পগুলোর গড় মেয়াদ ১৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে। চার বছরের মেয়াদি কিছু প্রকল্প শেষ হতে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। জাতীয় তহবিলের প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থ দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণেই এই অবস্থা।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু অর্থায়নে প্রকৃত উপকারভোগীদের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়।”