শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে: মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, বদলেছে আবেদন পদ্ধতি তরুণ শিল্পীদের সৃজনশীলতা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করায়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, দায়ীদের বিচার হবে: মির্জা ফখরুল দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস, ইকুয়েডরে শুক্রবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ চাইল আইএইএ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজের ওপর টোল বসাতে চায় ইরান, বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭০২

ছোট সংস্কার-বড় সংস্কার বিতর্কে বাংলাদেশের নির্বাচন রাজনীতি

আশীষ কুমার দে, ঢাকা:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর সাত মাসের স্বৈরশাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে নানা ধরনের গুজব ও জল্পনা-কল্পনা ডানা মেলতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন।

যদিও দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই এ নির্বাচনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট সংস্কার ও বড় সংস্কার বিতর্ক। দেশবাসী ছোট সংস্কার চাইলে এ বছর আর বড় সংস্কার চাইলে বিলম্বে বা আগামী বছর নির্বাচন হবে। বিএনপি কম সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে। আর বড় সংস্কার বা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শেষেই নির্বাচনের দাবিতে অনড় রয়েছে জামায়েতে ইসলামী, এনসিপি ও তাদের সমমনা শক্তিগুলো।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ ও নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে মতানৈক্য। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই-আগস্টে সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে এই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি পাঁচ আগস্ট এর পর থেকেই সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দাবি করে আসছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দাবি করে আসছিল, নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয়ের সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিস্ট (তাঁদের ভাষায়/ আওয়ামী লীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ করার পরই নির্বাচন হবে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার রাওয়া ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর হত্যাযজ্ঞের শিকার সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান জানান, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) তিনি বলেছেন।

সেনাপ্রধানের এ বক্তব্যের পর বিএনপির পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচনের দাবি আরো জোরালো হতে থাকে। বিএনপি’র পাশাপাশি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলও (বাসদ) শুরু থেকে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া একই দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপির সমমনা দলগুলোও।

অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের আগের দাবির পক্ষেই অনড় থাকে। এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা গঠন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পর তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধিত সংবিধান গণপরিষদে অনুমোদনের পর জাতীয় নির্বাচনের দাবি দাবি তোলেন।

এ অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। ওই সময় তিনি আরো বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর এই বক্তব্যে বিএনপি, সিপিবি ও বাসদসহ আরো কিছু দল সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বিপরীত শিবিরে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ।

নতুন দল এনসিপি এর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের জোর দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে সংস্কার কাজ এবং শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন তারা।

এনসিপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার সম্প্রতি দলের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্ধারণের চেয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করাই মুখ্য। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ করার পরই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির এসব বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি দাবিকে ঘিরে রাজনীতিতে মৃদু উত্তাপের মাঝেই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আগের দিন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বেতার ও টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরের দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় এবং রোডম্যাপ না থাকায় বিএনপি হতাশ হয়েছে। দেশে বিদ্যমান সংকট নিরসনের একমাত্র পথ জাতীয় নির্বাচন- মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তবে জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্ধারণ প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরুর পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়ে আসছিল। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চাইলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে এবং বেশি সংস্কার চাইলে ২০২৬ সালের জুনে নির্বাচন করা সম্ভব।

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি সংস্কার কমিটি গঠনের কিছুদিন পর থেকেই বিএনপি’র উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংবিধান ও বিচার বিভাগের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংস্কারের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ প্রয়োজন। সেজন্য সবার আগে দরকার জাতীয় নির্বাচন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি রাজনৈতিক সরকার।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD